ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা আইআরজিসির

ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর | ছবি: এখন টিভি
0

মধ্যপ্রাচ্যের পর এবার ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ট্রাম্পকে কোণঠাসা করতে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে যাচ্ছে ইরান- এমন দাবি করছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু। এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশের পর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া, যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে তারা।

মধ্যপ্রাচ্য আর ইউরোপ- দু'টি ভিন্ন প্রান্তে জ্বলছে সংঘাতের আগুন। শুরুটা ইউক্রেন-রাশিয়া দিয়ে হলেও এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ রীতিমতো টলিয়ে দিয়েছে ভূ-রাজনীতির ভারসাম্য।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রতিদিনই নিত্যনতুন শর্ত দিচ্ছেন ট্রাম্প দিচ্ছেন ভয়াবহ হামলার হুমকিও। বিপরীতে নিজদের অবস্থানে অটল থেকে প্রতিরোধ ধরে রেখেছে ইরান। এবার ট্রাম্পকে দুই দিক থেকে কাবু কর‌তে মধ্যপ্রাচ্যের পর ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস। আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে এই তথ্য।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও হামলার সিদ্ধান্ত নিলে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছে তেহরান।

আনাদোলু দাবি করছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে প্রস্তুতি নিয়েছে ইরানি বাহিনী। এরমধ্যে আছে বুলগেরিয়া। গেল মাসে মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজগুলোকে নিজেদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয় দেশটি। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বরাবরই সতর্ক করেছেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালাতে যে সব সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করা হবে, সেগুলোকে সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করবে তেহরান। ইরানের এই তালিকায় আছে সাইপ্রাসও। এর আগে গেল মার্চে সাইপ্রাসের একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা হয়।

এমন প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা লিখিত প্রতিক্রিয়ায় আনাদোলুকে জানান, ন্যাটো যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং জোটের মিত্রদের রক্ষায় যা প্রয়োজন ন্যাটো সবসময় তা করবে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোই প্রতিহত করেছে বলে মনে করিয়ে দেন এই কর্মকর্তা। তার দাবি, পশ্চিমা সামরিক জোটের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী ও কার্যকর- তা আগেই প্রমাণ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হলে দুই দিক থেকেই চাপে পড়বেন ট্রাম্প। নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ছেড়ে কথা বলবেন না ইউরোপের নেতারা। এবং তখন যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্পের ওপর চাপ আরও বাড়বে। আর এমনটা হলে সমঝোতার ক্ষেত্রে আরও বেশি সুবিধা পাবে ইরান। তবে, ইউরোপের নেতারা যদি ইরানকে সবকিছুর জন্য দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে যান, তাহলে আবার হিতে বিপরীত এক পরিস্থিতিতে পড়তে পারে তেহরান।

ইএ