বেলজিয়াম সীমান্তের কাছে পশ্চিম জার্মানিতে দাবানলের তাণ্ডব

হুয়ের্টগেনভাল্ডে দাবানলের ধোঁয়ার মধ্যে উড়ছে হেলিকপ্টার
হুয়ের্টগেনভাল্ডে দাবানলের ধোঁয়ার মধ্যে উড়ছে হেলিকপ্টার | ছবি: রয়টার্স
0

বেলজিয়াম সীমান্তের কাছাকাছি একটি দাবানল একটি গ্রামের দিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শুক্রবার পশ্চিম জার্মানিতে ২ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

গেই গ্রামের বাসিন্দাদের ভোর ৪টায় (গ্রিনিচ সময় রাত ২টা) বাড়িঘর ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়। পরে তাদের কাছাকাছি একটি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা সহায়তা কেন্দ্রে যেতে বলা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা লিও ব্রাউন রয়টার্সকে বলেন, ‘সকাল ৪টার দিকে অ্যাপে বার্তা পাই যে তখনই জায়গাটি ছেড়ে যেতে হবে। এরপর আমরা আগে থেকে গুছিয়ে রাখা জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত পালিয়ে আসি।’ বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছিল, শুধু জরুরি সামগ্রী, পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে নিতে।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, তাকে ‘পরিস্থিতি সম্পর্কে ক্রমাগত অবহিত রাখা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ফেডারেল পুলিশ ও বুন্দেসভের (জার্মান সেনাবাহিনী) যতটা সম্ভব সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গোলাবারুদে বাধা
গেই গ্রামটি যে হুয়ের্টগেনওয়াল্ড পৌরসভার অন্তর্গত, সেখানকার মেয়র স্টেফান ক্রেনেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো নাজুক। আঞ্চলিক রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘ডব্লিউডিআরের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগুনের শিখা এখন গ্রাম থেকে মাত্র ৩০০ মিটার (১ হাজার ফুট) দূরে রয়েছে।

ক্রেনেনকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা দাবানলগুলোর একটি রাতভর ছড়িয়ে কাছের ডুয়েরেন শহরের একটি পুরনো গোলাবারুদ ভাণ্ডারের দিকে চলে গেছে। দমকল কর্মীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আশপাশের বনের কিছু অংশে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ রয়ে গেছে। কারণ, পাহাড়ি ভূখণ্ডের জন্য পুরো এলাকা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। দাবানলের সময় বেশ কয়েকবার বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

প্রায় ৩০০ হেক্টর (৭৪০ একর) এলাকায় আগুন জ্বলছে। জার্মান সেনাবাহিনীর দুটি ট্যাংক দুর্গম বনাঞ্চলে প্রবেশের রাস্তা পরিষ্কার করে দমকল কর্মীদের সহায়তা করছে।

স্থানীয় এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘ওপর থেকে দেখলে বোঝা যাবে, ছোট ছোট অনেক আগুন এখনো খোলাখুলি জ্বলছে। প্রচুর জ্বলন্ত অঙ্গার রয়ে গেছে। ফলে কাজ শেষ হতে এখনো অনেক দেরি।’

এএম