সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালেই সেবা পেতে ভোগান্তি!

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কিছু চিত্র
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কিছু চিত্র | ছবি: এখন টিভি
0

অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জনবল সংকট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে চিকিৎসা সেবায় বিলম্ব হচ্ছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি রোগীর ভিড় হওয়ায় মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ওষুধ সংকট সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তিকে কঠিন করে তুলছে, বাড়িয়েছে দুর্ভোগ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক জানান, এই খাত অনিয়ম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। সংকট সমাধানে কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এসব অনিয়ম রোধ করার সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বিশাল চত্বর জুড়ে অবস্থিত এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত সেবা প্রদান প্রতিষ্ঠান জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, যা পঙ্গু হাসপাতাল নামে বেশি পরিচিত।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর এ হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনা, কলহ-বিবাদে আহত, হাড় ভাঙা, পঙ্গুত্ব, আঘাতজনিত সমস্যায় লাখেরও বেশি রোগী সেবা নেন।

রোগীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ এ হাসপাতালে রয়েছে শয্যা সংকট, ওষুধের স্বল্পতা, ওয়ার্ডবয় আর নার্সদের অপেশাদার আচরণ। এর সত্যতা নিশ্চিতে অনেকটা গোপনে হাসপাতালে থেকে দেখা গেছে দায়িত্বশীলদের সামনে গুরুতর আহত রোগীর বিছানার পাশেই দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বাদাম, চানাচুর, ডিম, চা, আচার, মিষ্টি।

অনেকেই বলেন, ‘ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হাসপাতালের রোগীরা। এখানে ওয়ার্ডের আশপাশে ফেলে রাখা হয় বর্জ্য।

রোগীদের অভিযোগ—তারা অপারেশন করাতে সিরিয়াল পাচ্ছেন না, নেয়া হচ্ছে না ভর্তিও। এছাড়া স্টাফ বা হাসপাতালের কর্মীদের ব্যবহার খুবই খারাপ বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি চিকিৎসক বা নার্সরা। এদিকে দুই কার্যদিবস অপেক্ষা করেও হাসপাতালের পরিচালকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রশিদুল আলম জানান, এই বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালকের শুধু গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার রয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, এই খাতে গাফিলতি রয়েছে সবচেয়ে বেশি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সুষ্ঠু নজরদারিই পারে রোগীদের উন্নতমানের সেবা দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যে সময়সীমা থাকে, সেটাকে মান্য না করে, যেহেতু এটা একটা বিকাশমান ব্যবসা, তারা যেটা করে যে, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে সেবাদানের জন্য তারা চলে যায়। ফলে যথাসময়ে যে সেবাদানকারী থাকার কথা, তারা সেখানে উপস্থিত থাকেন না, এতে সেবাগ্রহিতারা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। রোগীরা এবং আমরা সাধারণ মানুষ মেনে নেই যে, এটাই বাস্তবতা, এখানে আসলে ঘুষ দিতে হবে।’

এছাড়াও চিকিৎসাসেবায় দুর্নীতি ও অনিয়ম রোগীদের জীবন বিপন্ন করে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ভেঙে দেয় বলে জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

এসএইচ