‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহায়তা প্রত্যাশা করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি “গ্রিন স্কিল” ও “ডিজিটাল স্কিল” প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

আজ (রোববার, ৯ আগস্ট) ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

বৈঠকে শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে জোর দেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

একইসঙ্গে দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানব সম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এসময় তিনি এফসিডিও, আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্বে চলমান ‘রাইজ’ (RAISE) প্রজেক্টের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব ব্যক্ত করেন। এছাড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাস্তবে রূপদান এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন:

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তি তৈরি করতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠালে, তা তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত করবে।’

সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোতাবেক বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায়।

তিনি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ ও নিয়মিত এবং যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ তুলে ধরেন এবং অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করার তথ্য জানান। তিনি গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার কথাও জানান।

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার জানান, ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সেই দেশের সরকার ও জনগণ অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সম্প্রতি যারা সেখানে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক আবেদন মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকিদের নিজ নিজ দেশে ডিপোর্ট করা হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আবেদন নামঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ডিপোর্ট করা হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ