যুক্তরাজ্যের ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত উয়েফায় দায়িত্ব পালনকালে এক নারী কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বর্তমান ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো। সম্পর্কের সময়েই প্রশাসনিক পদে থাকা ওই নারী দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ব্যবস্থাপক হন এবং তার বেতন বাড়ানো হয় প্রায় ৩০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে তৎকালীন উয়েফা সভাপতি মিশেল প্লাতিনি কড়া পদক্ষেপ নেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হয় ইনফান্তিনোকে পদ ছাড়তে হবে, না হয় ওই নারীকে। শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো নিজের পদ রক্ষায় ওই নারীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই নারীকে চাকরি থেকে বিদায় করতে উয়েফার অফিশিয়াল তহবিল থেকে অন্তত ১ লাখ পাউন্ডের বিদায়ী ভাতা বা সেভারেন্স প্যাকেজ দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে তার সাড়ে ৪৫ হাজার পাউন্ড মূল্যের এমবিএ কোর্সের খরচও মেটানো হয় উয়েফার টাকা থেকে। ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নে ব্যবহৃত অর্থ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ধামাচাপা দিতে খরচ হওয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্কের।
আরও পড়ুন:
তবে ফিফা সভাপতির মুখপাত্র এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে উয়েফা নিশ্চিত করেছে যে, ওই নারীকে বিদায়ী ভাতা ও এমবিএ কোর্সের ফি দেয়া হয়েছিলো। তবে তাদের দাবি, তৎকালীন নিয়ম মেনেই সেই অর্থ প্রদান করা হয়, যদিও পরবর্তীতে এই ধরণের নিয়ম পরিবর্তন করেছে উয়েফা।
বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে এমনিতেই উয়েফা ও ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর তুমুল বিরোধের মুখে আছেন ইনফান্তিনো। এমনকি ইউয়েফা আগামী বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকিও দিয়ে রেখেছে।
সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই উয়েফায় থাকাকালীন সময়ের এই পুরনো কেলেঙ্কারি ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর অস্তিত্বকে আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলে দিলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





