গ্রিনিচ মান সময় ১০টা ১৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৭ সেন্ট কমে ৮১.৯২ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ৩৩ সেন্ট কমে হয়েছে ৭৬.৯৬ ডলার। যদিও বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করার একটি বিল ইরান পর্যালোচনা করায় প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। তবে সপ্তাহের হিসাবে দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ৯ শতাংশ কমতে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে পণ্যমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি চাইছে তেহরান। অন্যদিকে ওমান ৩ শতাংশ ফি নেয়ার প্রস্তাব দিলেও ওয়াশিংটন কোনো ফি ছাড়াই এই জলপথ ব্যবহারের পক্ষে। শিল্প খাতের চারটি সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বিমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসইবি রিসার্চের বিশ্লেষক বিয়ারনে শিলড্রপ বলেন, ‘ইরান-ওমান চুক্তির বর্তমান কাঠামো এবং এতে ইরান যে ক্ষমতা পাচ্ছে, তা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। এটি মানলে দেশে ট্রাম্পকে ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।’ ভান্ডা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে ঠিক কী কী দরকার, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
এদিকে সৌদি আরবের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া ও ইয়েমেনের হুতিরা একযোগে সৌদি আরবে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল স্থাপনা, বন্দর ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা হতে পারে। ইতিমধ্যে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের মারিব ও হাধরামাউতে সৌদি বাহিনীর অবস্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ শিগগির শেষ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।





