মাত্র কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে দু'টি আলাদা হত্যাকাণ্ডে থমথমে ব্যাংকক। স্কুল পড়ুয়া ক্লাস নাইনের এক শিক্ষার্থীর হাতে একদিনে প্রাণ গেছে ৮ জনের। শোকে-আতঙ্কে-বিস্ময়ে স্তব্ধ থাইল্যান্ডবাসী।
শুক্রবার, রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের ডেবসিরিন স্কুলে একটি বন্দুক হামলা হয়। নেপথ্যে ঐ স্কুলেরই ৯ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। প্রাণ যায় শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ বেশ কয়েকজনের।
এদিন স্কুলের একটি কক্ষ থেকেই এলোপাথারি গুলি চালায় ওই শিক্ষার্থী। হামলার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল, স্বাস্থ্যকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় থাই পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে জানানো হয়, হামলার এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করেছে আততায়ী। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। এরপর স্কুল চত্ত্বরের আশেপাশে সুরক্ষা বলয় তৈরির পর বের করা হয় আহতদের।
আরও পড়ুন:
প্রতক্ষদর্শীদের একজন বলেন, ‘বিল্ডিং-৫ এ তীব্র শব্দ শুনতে পাই। বুঝতে পারছিলাম না কী হয়েছে। ভেবেছি কেউ বাজি পোড়াচ্ছে বা মজা করছে। কিন্তু শব্দটা থামলো না। একের পর এক তীব্র আওয়াজ। এরপর সব চুপ।’
অন্য আরেকজন বলেন, ‘হামলার পরপরই শিক্ষার্থীদে সরিয়ে নেই। বাকি শিক্ষার্থীরাও এক বিল্ডিং থেকে অন্যদিকে সরে যায়। এতটাই আতঙ্কে ছিলাম, কী করব বুঝতে পারিনি।’
চাঞ্চল্যের এখানেই শেষ নয়। হামলার পরপরই থাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্কুলে আসার আগে বাড়িতে নিজের দাদা-দাদিকেও হত্যা করে ওই শিক্ষার্থী। শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল মন্তব্য করেছেন, এইসব কারণে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেয় না সরকার। দেশটিতে প্রতি ৭ জনের একজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র আছে।
জানা গেছে হামলাকারী ঐ শিক্ষার্থী ভিডিও গেমে আসক্ত ছিল। সে থাকতো তার দাদা-দাদিরই সঙ্গে। হত্যাকাণ্ডে দাদার ৯ এমএম শর্টগান ব্যবহার করেছিল ঐ শিক্ষার্থী। এই হত্যার পর আগ্নেয়াস্ত্র আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের হিসাবে স্কুলটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী ও ১৪৭ জন শিক্ষক আছেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের হাত ইয়াই জেলায় একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত ও একজন শিক্ষার্থী আহত হন।





