ইয়েমেনে সামরিক ক্যাম্পে হুথি হামলা; নিহত ৩০ সেনা, আহত ১৫

হুথি নেতাদের ছবি আঁকা দেয়ালের পাশ দিয়ে হাঁটা
হুথি নেতাদের ছবি আঁকা দেয়ালের পাশ দিয়ে হাঁটা | ছবি: আল জাজিরার
0

ইয়েমেনের হাধরামাউত ও মারিব প্রদেশের সরকারি সামরিক ক্যাম্পে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। ২০২২ সালের পর দেশটিতে সামরিক উত্তেজনার এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইমার্জেন্সি ফোর্সেস পরিচালিত কিছু ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে এই হামলা চালানো হয়। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে চালানো এই অভিযানে ‘শত শত’ সদস্য হতাহত হয়েছেন। ইয়েমেনি সেনাবাহিনী এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আল-জাওফ প্রদেশ থেকে মোট আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত চার বছর ইয়েমেনে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। হুথিরা ইতিমধ্যে সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে হামলা শুরু করেছে।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর ইয়েমেনে এই যুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করলেও হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করতে পারেনি। সম্প্রতি সানা বিমানবন্দরে ইরানের বিমান অবতরণে বাধা দেয়া এবং এর পাল্টা হিসেবে সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দরে হামলার চেষ্টার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। লোহিত সাগরের এই সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটছে যখন আরব উপদ্বীপের অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিও কার্যত অচল হয়ে আছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি রপ্তানিকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।

হুথিদের দাবি, তাদের ওপর সৌদি আরবের দেওয়া ‘অবরোধের’ জবাবেই তারা এই পাল্টা হামলা ও নৌ-অবরোধের পথ বেছে নিয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করেছে।

এএম