দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুদ্ধ পরিহারের নীতি অনুসরণ করার জন্য জাপানকে পৃথিবীর অন্যতম শান্তিকামী দেশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। এমনকি ১৯৪৭ সালে সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের মাধ্যমে জাপান যুদ্ধ এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার চিরতরে ত্যাগ করে।
এরপর থেকে দেশটি আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বে সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করার এবং পরমাণু অস্ত্র না রাখার নীতিতে অটল থেকেছে। তবে যুদ্ধংদেহী নীতি বাদ দিয়ে বিশ্বশান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর জোর দেয়া জাপান এবার প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ ও অস্ত্র উৎপাদনকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ হিসেবে দেখছে।
প্রশ্ন উঠেছে,বাস্তব নিরাপত্তার প্রয়োজন ও আত্মরক্ষার স্বার্থে জাপান কি তবে যুদ্ধ ও সামরিক শক্তি ত্যাগের সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত থেকে সরে গিয়েছে?
তাকাইচির সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতের বিনিয়োগকে এমনভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করছেন যাতে অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়।
আরও পড়ুন:
দেশটির সর্বশেষ প্রতিরক্ষা বিলে প্রতিবেশী চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতাকে দেশের নিরাপত্তায় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ড্রোননির্ভর যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে, দূরবর্তী দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করতে বিপুল বিনিয়োগ করছে টোকিও।
১৯৭৬ সালে মিকি তাকেওর সরকার জাপানের সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং ফুমিও কিশিদা যৌথ উন্নয়ন ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয়া শুরু করেন।
সব শেষে তাকাইচির মন্ত্রিসভা চলতি বছর দীর্ঘ আট দশকের অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে প্রাণঘাতী অস্ত্র বিদেশে বিক্রির পথ উন্মুক্ত করে। বর্তমানে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির ওপর এখন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
এছাড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও আধুনিক করতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথ অস্ত্র উন্নয়ন চুক্তি করেছে জাপান। মিত্র জোট যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।




