চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর হুমকি মোকাবিলায় তৈরি করা এই বার্ষিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, কয়েক দশকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এখন জাপানের উচিত প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, স্টার্টআপগুলোতে অর্থায়ন এবং অস্ত্র উৎপাদনে বাণিজ্যিক যন্ত্রাংশের ব্যবহার বাড়ানো। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উপস্থাপনা অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের সুবিধা সরাসরি অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কৌশলগত রাষ্ট্রীয় ব্যয় নীতির সঙ্গে এই পদক্ষেপের মিল রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অর্থনীতির চাকা সচল রাখা।
প্রতিরক্ষা ও সমৃদ্ধির এই যোগসূত্রকে জাপানের ভবিষ্যতের চিত্র হিসেবে তুলে ধরতে এবারের শ্বেতপত্রের প্রচ্ছদেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। আগের সংস্করণগুলোতে সেনা বা অস্ত্রের ছবি থাকলেও এবার স্থান পেয়েছে একটি ঝকঝকে আধুনিক শহরে হাস্যোজ্জ্বল পরিবারের অ্যানিমে-শৈলীর চিত্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ‘ভবিষ্যৎ জাপান’কে তুলে ধরতেই এই নকশা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির প্রশাসন বর্তমানে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তাইওয়ান ঘিরে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো সংঘাত মোকাবিলা এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তাতে টিকে থাকার প্রস্তুতি হিসেবেই প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানো হবে। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ‘চীনের সামরিক কর্মকাণ্ড জাপানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং এটি জাপানের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।’
এর আগে গত নভেম্বরে তাকাইচি বলেছিলেন, তাইওয়ানে চীনের হামলা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হলে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করতে পারে। তার এই বক্তব্যে বেইজিং তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি করেছিল।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে বড় এই সামরিক প্রস্তুতির জন্য কর বৃদ্ধি ও ব্যয় সংস্কারের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে টোকিও। বর্তমানে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে জনসাধারণের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে এই বিশাল অর্থায়ন কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা এখনো স্পষ্ট করেননি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত জাপানের রেকর্ড ১২২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বাজেট পাস হয়েছে, যার বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির পেছনে।





