আজ (সোমবার, ৩ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এসময় প্রতিযোগিতা সফল করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটবল দল গঠনের আহ্বান জানান তিনি। কোনো প্রতিষ্ঠান দল গঠনে ব্যর্থ হলে তাদের এমপিও স্থগিত রাখার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এমবাপ্পেকে আনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য সারা দেশে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন খেলোয়াড় তৈরি করা। সে লক্ষ্যেই প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে এমবাপ্পেকে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’
এতে দেশের তরুণদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
একইসঙ্গে দেশের প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল দল গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি একটি ফুটবল দলও গঠন করতে না পারে, তাহলে সেখানে শিক্ষার্থীর সংকট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। দল গঠন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত রাখার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।’
মীর শাহে আলম আরও জানান, প্রতিযোগিতাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে উপজেলা পর্যায়ে একটি মাঠের পরিবর্তে অন্তত চার থেকে পাঁচটি মাঠে একযোগে খেলার আয়োজন করা হবে। এতে আরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে এবং ফুটবল উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) এডিপির শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতের বরাদ্দ থেকে প্রতিযোগিতার ব্যয় নির্বাহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে রাজস্ব খাত থেকেও অর্থ ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোকে মাঠপর্যায়ের আয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রতিটি উপজেলার খেলার মাঠ সংস্কার ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নেবে। যাতে ভবিষ্যতে তৃণমূল থেকেই প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করা সম্ভব হয়।’
তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হলে স্থানীয়ভাবে মাঠগুলো খেলার উপযোগী করা সহজ হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সারাদেশে ফুটবল নিয়ে নতুন জোয়ার সৃষ্টি হোক। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা আশা করছি, প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঢাকায় আনা সম্ভব হবে।’
এর আগে বাংলাদেশে বিশ্বকাপজয়ী অনেক ফুটবলারই এসেছেন। চলতি বছর ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা, জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন।
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা তো জাতীয় স্টেডিয়ামে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচও খেলেছে।
তবে এর শুরুটা হয়েছিল ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদানের বাংলাদেশে আসার মধ্য দিয়ে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের এই মিডফিল্ডার দু’দিনের সফরে এসেছিলেন। ২০২২ বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন জিজুরই বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান কারেম্বুও।




