অভিবাসী ঠেকাতে ১৬০০ ফুট ভাসমান প্রতিবন্ধক বসালো স্পেন

সমুদ্র নিরাপত্তায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসিয়েছে স্পেন
সমুদ্র নিরাপত্তায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসিয়েছে স্পেন | ছবি : সংগৃহীত
0

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আকস্মিক ঢলের পর সমুদ্র নিরাপত্তায় মরোক্কো ও সেউতার মধ্যবর্তী স্থানে ১ হাজার ৬০০ ফুট ভাসমান ব্যারিয়ার বসিয়েছে স্পেন সরকার। এদিকে, এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসী মরোক্কোতে ফেরত গেলেও সেউতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে উদ্বেগ জানিয়েছে নগর প্রশাসন। আর অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত মরক্কোয় ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাগর পাড়ি দেয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।

সেনাবাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সেউতার সমুদ্র তীরবর্তী একটি সুড়ঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লুকিয়ে ছিলেন এক অভিবাসনপ্রত্যাশী। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করেন তাকে। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত সেউতা শহরে ঢুকে পড়ছেন আরেক অভিবাসনপ্রত্যাশী।

উত্তাল সমুদ্র ও কাঁটাতারের বেড়া পাড়ি দিয়ে রাতারাতি মরোক্কো থেকে সেউতায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর আকস্মিক ঢলের ঘটনা এখন বিশ্বজুড়ে টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। এরপরই নড়ে চড়ে বসে স্পেন সরকার।

নতুন করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নিয়ন্ত্রণে সমুদ্র নিরাপত্তায় মরক্কো ও সেউতার মধ্যবর্তী স্থানে ১৬০০ ফুট ভাসমান ব্যারিয়ার বসিয়েছে স্পেন সরকার। এছাড়াও, সমুদ্র এলাকায় বাড়ানো হয়েছে সেনাবাহিনীর টহল। তবে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপগুলো যথেষ্ট নয় বলে উদ্বেগ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কর্মকর্তাদের।

আরও পড়ুন:

সেউতে ইউনিফাইড অ্যাসোসিয়েশন অফ সিভিল গার্ডসের মুখপাত্র রশিদ সবিহি বলেন, ‘যে ব্যারিয়ারটি দেয়া হয়েছে এটাও ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কেননা যে কেউ চাইলেই খুব সহজে সাঁতরে ব্যারিয়ারগুলো পাড়ি দিয়ে স্থলপথে ঢুকে পড়তে পারে।’

এদিকে, এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হলেও সবাই ফিরে না যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেউতার পরিস্থিতির স্বাভাবিক হবে না উদ্বেগ জানিয়েছেন স্বায়ত্তশাসিত শহরটির কর্তৃপক্ষ।

সেউতার স্থানীয় সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস বলেন, ‘সেউতার পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। শহরটিতে অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী ঢুকে পড়েছে। তাদেরকে অবশ্যই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হবে।’

চরম অর্থনৈতিক সংকট ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎকে স্বাক্ষী রেখে ফের মরক্কোতে ফেরত যাওয়ায় চোখে- মুখে হতাশার ছাপ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের। অনেকেই আবার মরক্কোতে ফেরত যাওয়ার চেয়ে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করছেন।

আমি সুদান থেকে মরক্কোতে এসেছি। এবারই প্রথম আমি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এসেছি। মরক্কোতে অনেকেই আছেন যারা অন্তত ৩০-৪০ বার সমুদ্র পাড়ি দিতে চেয়েছে। আমি আর মরক্কোয় ফিরতে চাই না। সেখানে কোন কর্মসংস্থান নেই।

আর রাতারাতি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল সেউতায় ঢুকে পড়ায় শহরের নিরাপত্তা বিবেচনায় সেনাবাহিনীকে টহল জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

এফএস