আজ (রোববার, ৪ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। গত ১৯ জুলাই ২০২৪ বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির সনদ প্রত্যাহার করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট হয়। প্রথমটি করেন একজন রিক্রুটিং এজেন্ট। পরে ১১ জন রিক্রুটিং এজেন্ট আরেকটি রিট করেন। দুটি রিটের ক্ষেত্রেই হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি রিটের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। রোববার আরেক রিটের ক্ষেত্রেও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আপিল বিভাগের ৩০শে সেপ্টেম্বর এবং আজকের (রোববার) আদেশের ফলে, সরকার যে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্টের সনদ প্রত্যাহার করেছিল, সরকারের এই আদেশটিই বহাল থাকল।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে একটি ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি করে বাংলাদেশের মানুষের দেশটিতে যাওয়ার সুযোগ বাধাগ্রস্ত ও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে মামলা হয়। ওই মামলায় অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘মালয়েশিয়াতে লোক পাঠানোর নাম করে একটি সিন্ডিকেট করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মালয়েশিয়াতে যাওয়া, তাদেরকে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করা, একপর্যায়ে বাংলাদেশের মানুষের মালয়েশিয়াতে যাওয়াটাই বন্ধ হয়ে গেছে।’
বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এক ধরনের চাকরির কথা বলে অন্য ধরনের চাকরিতে নিয়ে যাওয়া এবং অবৈধভাবে লোক পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
গত ১৯ জুলাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট গঠন ও অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন রিক্রুটিং এজেন্সিসহ ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশে বলা হয়, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি-বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল ও গ্রহণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী এসব রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার এবং জনস্বার্থে ওই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়।
বাতিল হওয়া এজেন্সির মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল রয়েছে।
ঢাকা-২০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড এবং ফেনী-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল রয়েছে তালিকায়। এ ছাড়া জনশক্তি খাতের ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল রয়েছে।





