জীবন বাজি রেখে, সাঁতরে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে, কাটা তারের বেড়া পার হয়ে যে পথে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় এসেছিলেন, সেই পথেই আবার ফিরে যাচ্ছেন মরক্কোর হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী। মানব পাচারকারীদের গুজবের ফাঁদে পড়ে শুক্রবার স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহরে ঢুকে পড়েন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কিন্তু লাভ হয়নি শেষ পর্যন্ত, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় একদিনের ফেরর পাঠানো হয়েছে ৪৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে। বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটি ৫০ হাজার।
ফেরার পথে নিজেদের আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন এই অভিবাসীরা। কাজের সংকট, অর্থনৈতিক দুরাবস্থার সঙ্গে লড়তে লড়তে এক কাপড়েই দেশ ছেড়েছিলেন অনেকে। দেখেছিলেন দিন বদলের স্বপ্ন, ছিল উন্নত জীবনের আশাও। দেশে ফিরে এখন কী করবেন- এর উত্তর নেই অনেকের কাছে।
মরক্কোর একজন বলেন, ‘৬-৮ বছরের শিশুদেরও দেশ ছাড়তে দেখেছি। জানি না কী করবো। কিছুই বুঝতে পারছি না।’
অভিবাসনপ্রত্যাশী একজন বলেন, ‘একটা ভালো জীবন চেয়েছিলাম। কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণা আর দুর্দশা ছাড়া কিছুই পাইনি। স্পেনে মায়ের কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম।’
আরও পড়ুন:
এর আগে শুক্রবারই সেউতায় অভিবাসীদের ঢল পর্যবেক্ষণ করতে যান প্রেসিডেন্ট পেদ্রো স্যানচেজ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এই অঞ্চলে দেশগুলোর সমালোচনা আর উদ্বেগের জেরে শান্তিপূর্ণভাবে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। দাবি করেন, অভিবাসীদের এই অনুপ্রবেশ স্পেনের অখণ্ডতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে স্পেন প্রশাসনের সঙ্গে ট্রাম্পের আতাত আর কঠোর অভিবাসন আইনের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আকুণ্ঠ সমর্থন- দুটোই বহু পুরনো। তাই সুযোগের সঠিক ব্যবহার করতে ভোলেননি ট্রাম্প। স্যানচেজ প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারের অতি উদারপন্থী অবস্থানের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘স্পেনের বিপর্যয় দেখলাম। দেখ মনে হলো লাখ লাখ মানুষ তাদের দেশ আক্রমণ করেছে। রিপাবলিকানরা নির্বাচিত না হলে আমাদের দেশেও একই অবস্থা হতো। আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতো। আমরা এ জন্যেই হাজার হাজার মাইল দীর্ঘ প্রাচীর নির্মাণ করেছি।’
দেখা যাচ্ছে, সেউতা ও মেলিলা এই দু’টি এনক্লেভই মরক্কো ও স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ফাটলের কেন্দ্রে উঠে আসছে। আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থল সীমান্ত সেউতা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে এই অঞ্চলে ঢুকে পড়ছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। সেউতার স্থানীয় প্রশাসন বারবার মাদ্রিদের কাছে আবেদিন জানালেও তা ঠিক মতো আমলে নেয়া হয়নি। এর জেরেই ২০২১ এর পর এমন অভিবাসীদের ঢল দেখলো স্পেন।




