জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্কের চার বছরের মেয়াদ নবায়নের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এর দুই দিন পরই এই ঘটনা ঘটল। এর আগে অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের কর্মকর্তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
গত শনিবার জেনেভায় জাতিসংঘে ফ্রান্সের মিশন এক পোস্টে লিখেছিল, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর ‘মানবাধিকারের বাতিঘর’ নয়। এই ইস্যুতে দেশটি এখন উত্তর কোরিয়া, নিকারাগুয়া, মালি এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে একঘরে হয়ে পড়েছে।
এর জবাবে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ফ্রান্স এমন একজন মানবাধিকার প্রধানের পক্ষে ভোট দিয়েছে, যিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইসরাইলের মতো স্বাধীন, সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে জ্ঞান দিয়ে বেড়ান, অথচ বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ নিপীড়কদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।
ওয়াকআউটের পর মার্কিন প্রতিনিধিদলের বিকল্প প্রতিনিধি ড্যান নেগ্রিয়া নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, ফ্রান্স যত দিন পর্যন্ত এই ‘অবজ্ঞাপূর্ণ ও অসম্মানজনক বক্তব্য’ প্রত্যাহার না করবে, তত দিন পর্যন্ত তার প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট চালিয়ে যাবে।
তবে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বননাফোঁ তার বক্তব্যে ওয়াকআউটের প্রসঙ্গটি টানেননি। তিনি বলেন, ফ্রান্স জাতিসংঘের স্বাধীনতা ও কার্যক্ষমতা রক্ষার জন্যই কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন ও ইরানে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করে আসছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৪৪ ভোটে তিনি পুনর্নিযুক্ত হন। তার বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১০টি এবং ভোটদানে বিরত থাকে ১৩টি দেশ।
২০২৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার তহবিল কমিয়ে দিয়েছে এবং ডজন খানেক সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলকার তুর্কের নিয়োগ ইস্যুতে জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করার হুমকিও দিয়েছিল দেশটি।
ন্যাটোর ব্যয়, বাণিজ্যনীতি এবং ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি নিয়েও ওয়াশিংটন ও প্যারিসের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এছাড়া ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ফ্রান্সও ট্রাম্পের ক্ষোভের মুখে পড়েছে।





