গেল মে থেকে ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে আফ্রিকার দারিদ্রপীড়িত ও গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত দেশ কঙ্গো। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাব, সঠিক সময়ে সন্দেহভাজন রোগীদের শনাক্ত করতে না পারাসহ নানা কারণে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলার সক্রিয় ভ্যারিয়েন্ট বুন্দিবুগিও। এতে বাড়ছে প্রাণহানি ও শনাক্তের সংখ্যা।
তবে রোগীর বাড়তি চাপে কঙ্গোর হাসপাতালগুলোর হিমশিম পরিস্থিতির মাঝেই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাদুর্ভাবের হটস্পট ইতুরি প্রদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট। প্রদেশটির রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফেরত যেতে রাজি নয় তারা।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যের সবকিছু করেছি, কিন্তু ২ মাস কোনো বেতন পাইনি। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবো না।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পরিশ্রম বৃথা যাবে। আমাদের অনেকে সংক্রমিত হচ্ছে। মারাও যাচ্ছে। এর দায় কে নেবে? সরকারকে অবশ্যই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে।’
আরও পড়ুন:
যদিও ধর্মঘটের দু’দিন আগে ইতুরির স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে প্রটোকল না মেনে মরদেহ পরিবহন ও দাফনকার্য সম্পন্ন না হওয়ায় প্রাদুর্ভাবটি আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ব্যবস্থাপক অ্যান্ডু এমবালা বলেন, ‘যদি আমরা প্রটোকল মেনে মৃতদেহ পরিবহন ও দাফনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিতে পারি; তাহলে রোগ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। দেশটিতে কাজ করা প্রতিটি সংস্থা রোগটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’
ইবোলা ছড়িয়ে পড়া রোধে প্রতিবেশী দেশ তানজিনিয়া তাদের প্রধান বন্দর ও বিমানবন্দরগুলো স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করেছে। এছাড়াও সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে রুয়ান্ডা, উগান্ডা ও জাম্বিয়া।
আর প্রথমবারের মতো ইবোলার বুন্দিবুগিও ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় হিউম্যান ট্রায়ালের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিন গ্রুপ পরীক্ষামূলক টিকার প্রথম ডোজ স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে প্রয়োগ করেছে।




