মাটি বিক্রির অনিয়মে হুমকিতে ইছামতি নদীর তীর

ইছামতি নদীর তীর
ইছামতি নদীর তীর | ছবি: এখন টিভি
0

পাবনার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পে নদী খননের মাটি বিক্রিকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, খননের সময় নদীর পাড়ে রাখা মাটি বিক্রির সময় নির্ধারিত সীমার বাইরে গভীরভাবে মাটি কেটে নেয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীর ও আশপাশের হাজার বিঘা ফসলি জমি। এতে বাড়ছে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা। তবে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার।

পাবনার প্রাণ ইছামতি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে চলছে ১১০ কিলোমিটার খনন কাজ। খননের পর প্রকল্পের আওতায় উত্তোলিত মাটি শর্তসাপেক্ষে বিক্রি করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই শর্ত মানছেন না কিছু মাটি ব্যবসায়ী।

অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত স্থানের বাইরে গভীরভাবে মাটি কাটায় হুমকির মুখে নদীর তীর। এছাড়া কোথাও কোথাও কেটে নেয়া হচ্ছে পাশের ফসলি জমির মাটিও। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে নদীভাঙনের ঝুঁকি। প্রতিকার চেয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘সংবাদ পালেম যে আমার পাট কাটতেছে। আমি দৌড়ায়ে এসে দেখি যে অলরেডি আমার পাট সব কাটে ফেলেছে।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন বলেন, ‘তারা বর্তমানে মাটি কাটতেছে একবারে গভীর করি। পানি সমান করে কাটি নিয়ে যাচ্ছে। এ জায়গায় আমার আর আবাদ করার মতো পরিবেশ নাই।’

পাবনার বাসিন্দাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এভাবে কাটিলে তো আমাদের জমি নষ্ট হয়ে যাবে। পানি ঢুকবে, এখনই তো পানি প্রায় ঢুকতেছে জমিতে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ীরা। তবে শর্ত ভঙ্গ করে কেউ মাটি কাটলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পাবনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, ‘আমরা যখন মাটিটা বুঝায় দিই, তখন তাদেরকে একটা ডিজাইন লেভেল মেইনটেইন করে মাটিটা বুঝায় দিই আর কি। এখন কোনো জায়গায় এরকম যদি হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আমরা সরজমিনে ভিজিট করে সে মোতাবেক আমরা ঠিকাদারের কাছ থেকে ব্যবস্থা নেব আর কি।’

২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় ইছামতি নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ।

এসএস