দক্ষিণের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে চরকিং ও চরঈশ্বর সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ সবজি খেত। বৃষ্টি বন্ধের পর পানি কমা শুরু হলে, সবজি গাছ গোড়ায় পচন ধরে মরে যাচ্ছে। অনেকে নিজেদের সহায় সম্বল বিক্রি করে, আবার কেউ কেউ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই সবজি চাষ শুরু করেছিলেন। এখন নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব অনেক কৃষক।
স্থানীয়রা জানান, ভারী বর্ষণের কারণে অধিকাংশ সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে অধিকাংশ চাষিদের।
উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আউশ ধান, বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ ও পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে কৃষকরা ৩০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
আরও পড়ুন:
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় উপজেলার ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউশ ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর বিভিন্ন ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কৃষি অফিস থেকে সঠিক সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
কৃষি বিভাগের দাবি, টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ার কৃষকদের ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছে পৌঁছানো হবে।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, ‘প্রায় ২০ কোটির মতো ক্ষয়-ক্ষতি হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরা প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছি। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। কোনো প্রণোদনা দেয়া হলে তার মাধ্যমে কৃষকদের পুনর্বাসন করা হবে।’
কৃষকদের যথাযথ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও সময়মতো সহায়তা দেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন-এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।





