মার্কিন হামলায় ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি যুক্তরাজ্যের, ইরানের তীব্র নিন্দা

একটি বিলবোর্ডের নিচে দাঁড়িয়ে ইরানের পতাকা ওড়াচ্ছেন এক ব্যক্তি
একটি বিলবোর্ডের নিচে দাঁড়িয়ে ইরানের পতাকা ওড়াচ্ছেন এক ব্যক্তি | ছবি: রয়টার্স
0

তেহরানের ওপর হামলার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি দেয়ায় যুক্তরাজ্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করবে, তাদের এর পরিণতির দায়ভার বহন করতে হবে। আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনের ‘অবৈধ’ হামলায় সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে লন্ডন জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তি দেয় যে লন্ডনের এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রেজোলিউশন ৩৩৫৪-এর অনুচ্ছেদ ৩(এফ) অনুযায়ী ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য। এই আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি অন্য রাষ্ট্রকে তৃতীয় কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোর জন্য নিজের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে তা আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হয়।

তেহরান বলছে, ইসরাইলের অংশগ্রহণে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান একটি ‘সুস্পষ্ট আগ্রাসন’। ব্রিটিশ নীতিনির্ধারকরা এটি জেনেও এই অভিযানে সহায়তা করছেন, যা ‘আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধে উসকানি’ দেয়ার শামিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হয়েও ব্রিটেন আগ্রাসনকারী দেশগুলোকে সমর্থন দেয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। তাদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি লন্ডনের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।

ব্লুমবার্গের বুধবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এই ব্যবস্থার আওতায় মার্কিন বাহিনী ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি এবং ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।

বিবৃতিতে ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান, ইরান-ইরাক যুদ্ধে ইরাককে সমর্থন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা এবং আইআরজিসিকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্রিটেনের দীর্ঘ হস্তক্ষেপের ইতিহাস তুলে ধরে তেহরান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর। যেকোনো দেশ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনে অংশ নেয়, তবে তাদের এই সিদ্ধান্তের পরিণতির দায় নিতে হবে।’

গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা জবাবে তেহরানও এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানছে। উল্লেখ্য, গত জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে তা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

এএম