উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুইয়ের এই সফর কোনো বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক অনুষ্ঠান বা রাষ্ট্রীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে হচ্ছে না। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সম্ভাব্য রাশিয়া সফরের প্রস্তুতির জন্যই তার এই সফর।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের আমন্ত্রণে গত শনিবার চোয়ে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তবে কিম ও পুতিনের মধ্যে আরেকটি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে তারা কিছু বলেনি।
উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কেসিএনএ মঙ্গলবার জানিয়েছে, সোমবার চোয়ে ও ল্যাভরভের মধ্যে আলাদা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার একীভবন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউন মিন হো জানিয়েছেন, সিউল এই বৈঠকগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে মস্কো ও পিয়ংইয়ং তাদের নেতাদের মধ্যে আরেকটি শীর্ষ বৈঠক নিয়ে আলোচনা করছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মূল্যায়ন করতে অস্বীকৃতি জানান।
রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ক্রেমলিনে চোয়ের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযানে সমর্থন দেয়ার জন্য ‘উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা’ পুনর্ব্যক্ত করেন। জবাবে চোয়ে পুতিনকে জানান, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ‘সর্বাত্মক উন্নয়নে’ কিম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে পুতিনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের জন্য রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে গিয়েছিলেন কিম। এরপর ২০২৪ সালের জুনে পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে পুতিন কিমকে আবারও রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। ওই বৈঠকে দুই নেতা কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেন, যেখানে যেকোনো এক দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে অপর দেশ পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিম রাশিয়াকেই তার পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সমর্থন দিতে হাজার হাজার সেনা ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বিনিময়ে অর্থনৈতিক সহায়তা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুবিধা পাচ্ছেন কিম, যা উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে। এ ছাড়া চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করছে পিয়ংইয়ং। গত জুনে পিয়ংইয়ংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানান কিম।
চোয়ের মস্কো সফরের কিছুদিন আগেই উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হয়েছে। কিমের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা ও উত্তর কোরিয়ার মন্ত্রিসভার প্রধান পাক থে সং বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া চলতি মাসে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শক্তিশালী পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ওয়াং হুনিং পিয়ংইয়ংয়ে কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পারমাণবিক কূটনীতি ভেঙে পড়ার পর থেকে কিম যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব ধরনের অর্থবহ সংলাপ স্থগিত রেখেছেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে তিনি একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই সুযোগে তিনি নিজের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন এবং একইসঙ্গে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ওয়াশিংটনকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।





