গতকাল (সোমবার, ২০ জুলাই) হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ভারতের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে জড়ো হন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে সিজেপি নামক অনলাইন আন্দোলনের এই শক্তি প্রদর্শনে গোটা দিল্লি উত্তাল হয়ে ওঠে। গত মে মাসে যাত্রা শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী তৈরি করেছে সিজেপি। ২০২৪ সালে হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এটিই তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে সিজেপির নেতা আশুতোষ রঙ্কা বলেন, ‘আমরা থামব না। প্রধানকে বরখাস্ত করতেই হবে।’ মঙ্গলবারও কয়েকশ বিক্ষোভকারী দিল্লির জান্তার মন্তর এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে ছিলেন। তাদের অনেকেই শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের ডাক দেন।
সোমবার সংসদ ভবনের দিকে বিক্ষোভকারীদের মিছিল ঠেকাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিপেটা করে। গত প্রায় পাঁচ বছরে দিল্লিতে এটি ছিল অন্যতম বড় সমাবেশ। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সংঘর্ষে অন্তত ১৭৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ ১১৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। ‘সহিংস জনতার অশালীন, আক্রমণাত্মক ও সহিংস আচরণের’ সমালোচনা করে সোমবার রাতে দেয়া বিবৃতিতে পুলিশ আরও জানায়, ধস্তাধস্তির সময় প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হন।
অন্যদিকে, আন্দোলনের সংগঠকেরা কর্তৃপক্ষের ‘অতিমাত্রার বলপ্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শত শত বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। রঙ্কা এএফপিকে বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জাজনক দিন। যারা একটি ন্যায্য দাবি নিয়ে এসেছিল, সেই সৎ শিক্ষার্থীদের দিল্লি পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়েছে।’ সোমবার তিনি জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন। তবে সরকার এখনো তাদের দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি।
দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশে লাখ লাখ মানুষ স্থিতিশীল ও ভালো বেতনের চাকরি খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। এছাড়া ধারাবাহিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের পরীক্ষা পদ্ধতির প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বাতিল হওয়া পরীক্ষা ফের নেয়ায় গত মাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রায় ২২ লাখ মেডিকেল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও বড় কেলেঙ্কারি হয়েছিল।





