২০২১ সালের ডিসেম্বরে সদরের তুলাতুলি থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চর ও দৌলতখানের মদনপুর চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি। কিন্তু মেঘনায় চলাচলকারী বড় নৌযানের অপরিকল্পিত নোঙর করার কারণে ৭ মাসের মধ্যেই তিনটি ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সংযোগ নেয়া ৭২০ গ্রাহকের জীবনযাত্রায় আবারও নেমে আসে অন্ধকার। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে নেয়া সঞ্চালন লাইন প্রায় চারবছর পড়ে আছে বিদ্যুৎ বিহীন।
শুধু গৃহস্থালি নয়, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রভাব পড়েছে পুরো চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ফ্রিজভিত্তিক দোকান, মোবাইল সার্ভিসিং, ফটোকপি, অনলাইন সেবা—সবখানেই নেমে এসেছে স্থবিরতা। তাই চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি স্থানীয়দের।
গ্রাহকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমার দোকানে প্রায় ৪ লাখ টাকার ফ্যান, লাইট, সুইচ, প্রায় ৪ লাখ টাকার মালামাল আমার গোডাউনে পইড়া রইছে কিন্তু এগুলা অকেজো হয়ে যাইতেছে।’
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমাদের অর্থনৈতিক অর্থনৈতিকভাবে অনেক আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদের বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমরা বিশাল সমস্যায় আছি। আমাদের বিদ্যুৎটা দিয়ে দিলে আমরা অনেক সবল।’
এদিকে তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুর্গম চরের কয়েক হাজার খাম্বায় টানা সঞ্চালন লাইন ও ট্রান্সফর্মার নিয়ে যাচ্ছেন অসাধু একটি চক্র। নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে অনেক খাম্বা। তবে বিচ্ছিন্ন দুই চরে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ দেয়ার জন্য নতুন করে সমীক্ষা করার কথা জানালেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী শতদীপ সরকার বলেন, ‘আমরা এর আগে সাবমেরিন ক্যাবল লিংক করছিলাম সেটা দুই মাস আসলে সাসটেইন করছিল তারপরে এটা নষ্ট হয়ে যায়। আপনারা জানেন যে ওই এলাকায় নদীতে জাহাজ নোঙর করে। এতে আমাদের সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তো এটা আরও অনেক ফিজিক্যাল স্টাডি করা হইছে। এখন পর্যন্ত আসলে আমরা কোনো পরিকল্পনা নিতে পারি নাই। তো তবে কাজ চলমান আছে কীভাবে সেই জায়গায় বিদ্যুৎ দেয়া যায় সেটা নিয়ে আমরা কাজ করতেছি।’
বিচ্ছিন্ন চরের বাসিন্দাদের আলোকিত করার জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে এ সাবমেরিন কেবল টানা হয়েছিল। আর দুই কোটি টাকা খরচ করে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবলটি পুনঃস্থাপন না করায় চার বছর অকেজো পড়ে আছে।




