টুখেলের ‘বাস পার্কিং’ থিওরিতে স্বপ্নভঙ্গ: আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় ইংল্যান্ডের

আর্জেন্টিনার জয় উদযাপন
আর্জেন্টিনার জয় উদযাপন | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের নাটকীয় হারে স্তম্ভিত ইংলিশ ফুটবল ভক্তরা। ১-০ তে এগিয়ে থেকেও কোচ টমাস টুখেলের অতি-রক্ষণাত্মক কৌশলে ম্যাচ হাতছাড়া করেছে থ্রি লায়ন্সরা।

ইটস কামিং হোম"-স্লোগানটা আরও একবার পরিণত হলো ইংলিশদের দীর্ঘশ্বাসে! ৫৩ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়ে ফাইনালে এক পা- দিয়েও ফেলেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু এরপরই শুরু কোচ টমাস টুখেলের সেই চেনা 'বাস পার্কিং' থিওরি। শেষ ২০ মিনিটে একসঙ্গে ৩ জন ডিফেন্ডার নামিয়ে যেন নিজের পায়েই কুড়াল মারলেন কোচ। আর কোচের এই প্যানিক বা ভীতি ছড়ানো ছক নিয়েই এবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ওয়েন রুনি।

সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ওয়েন রুনি বলেন, ১-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পর কোচ যেভাবে ডিফেন্ডারদের মাঠে নামালেন, তাতে দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল। আপনি ম্যাচ থেকে এভাবে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে আর্জেন্টিনার মতো কোয়ালিটি দলের সামনে গোলপোস্ট আগলে বসে থাকতে পারেন না। এটা স্রেফ প্যানিক ছিলো।

রুনির সুরেই সুর মিলিয়েছেন সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট। তার মতে, টুখেলের ডাগআউটে সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের রক্ষণাত্মক ভূত ভর করেছিল। মেক্সিকো বা নরওয়ের বিপক্ষে এই ভীরু কৌশল খাটলেও, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এই রূপ আত্মসমর্পণ মানতে পারছেন না জো হার্ট।

সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিড নেয়ার পর রক্ষণাত্মক হয়ে সাউথগেট যেভাবে সমালোচিত হতেন, টুখেলও ঠিক একই ভুল করেছেন। কোচ নিজেই তাঁর দলের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন তাঁর দল আর আর্জেন্টিনাকে পাঞ্চ করতে পারবে না।

সাবেক তারকাদের এই সমালোচনার মিছিলে যোগ দিয়েছেন মাইকেল ওয়েনও। স্পেনের সাহসিকতার উদাহরণ টেনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টুখেলের ফুটবল জ্ঞান নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মাইকেল ওয়েন বলেন, ১-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পর স্পেনের সাহসিকতা দেখুন, তারা বল পজিশন ধরে রেখেছিল। আর ইংল্যান্ড কী করলো? ৩ জন ডিফেন্ডার নামালো! এটা কী বার্তা দেয়? আমরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ভালো দল হওয়া সত্ত্বেও এই ভীরুতার কারণে আজ হেরেছি। আমরা এটাই ডিজার্ভ করি।

সাবেক বোদ্ধাদের এই তোপের মুখে এখন কাঠগড়ায় টমাস টুখেল। আর অন্যদিকে, লন্ডনের রাস্তায় যখন বিষাদের মেঘ, তখন আর্জেন্টাইন ভক্তদের উৎসবের চিৎকার যেন ইংলিশদের মনে করিয়ে দিচ্ছে— ফুটবলে ভীরুদের কোনো জায়গা নেই।

ইএ