মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই তীব্রতর হচ্ছে তাপপ্রবাহ!

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি | ছবি: এখন টিভি
0

ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে বৈশ্বিক জলবায়ু, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে পুরো পৃথিবীর মানুষের ওপর। চলতি বছর জুনের শেষের দিকে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলকে গ্রাস করেছে রেকর্ডমাত্রার তাপপ্রবাহ। তীব্র এ তাপ প্রবাহে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মূলত মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন কারণে তাপপ্রবাহ আরও বেশি এবং তীব্র হচ্ছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২০২৬ সালের জুন মাসের শেষদিকে আঘাত হানা রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে ১০ হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সমর্থিত মৃত্যুহার পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক ইউরোমোমোর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি ছিলেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। কেননা বয়স্ক ব্যক্তিরাই তীব্র গরমের সবচেয়ে বড় শিকার বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেনমার্কের স্ট্যাটেনস সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক এবং ইউরোমোমো'র প্রতিনিধি লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে জানান, বছরের এই সময়ে এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে রেকর্ড তাপপ্রবাহকেই দায়ী করছেন তিনি।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং একাকী বসবাসকারী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বলে জানিয়েছে তারা।

এদিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না হলে জুনের শেষের এই তাপপ্রবাহ কার্যত অসম্ভব ছিল। জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে তাপপ্রবাহ এখন আরও ক্রমাগত, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন এসব বিজ্ঞানী।

এছাড়া, তাপপ্রবাহের প্রভাবে প্রাণহানির পাশাপাশি ব্যাহত হয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনও। কেননা তীব্র দাবদাহের কারণে ফ্রান্স, স্পেন এবং যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় । এমনকি অনেক স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, ১৩ জুলাই প্রকাশিত আরেকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে, মে ও জুন মাসের তাপপ্রবাহে শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেই প্রায় ২ হাজার ৭০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এসব মৃত্যুর প্রায় ৪২ শতাংশের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রা সরাসরি দায়ী। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন না হলে মৃত্যুর একটি বড় অংশ এড়ানো সম্ভব হতো। অবশ্য ভবিষ্যতে তাপপ্রবাহ আরও বেশি দেখা দিতে পারে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের।

এসএইচ