ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

পুলিশি হেফাজতে আদালত প্রাঙ্গণে আসামি
পুলিশি হেফাজতে আদালত প্রাঙ্গণে আসামি | ছবি: এখন টিভি
0

২০২২ সালে যৌতুকের দাবিতে নিজের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামী মো. লালন মোল্লাকে (৫৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ (সোমবার, ১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

একইসঙ্গে আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে ২০০৪ সালে বিয়ে করেন লালন মোল্লা। বিয়ের পর থেকেই মাদক কেনার টাকার জন্য তিনি স্ত্রীকে চাপ দিতেন। স্ত্রী সাজেদা বেগম বাবার বাড়ি থেকে কয়েক দফা টাকা এনে দিলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে ঘরের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে সাজেদা বেগমের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করেন লালন।

আরও পড়ুন:

পরে নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম সেদিনই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

মামলাটি তদন্ত শেষে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাথ দাস ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় লালন মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায় ঘোষণার পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ধরনের অপরাধ করলে আইনের কঠোর শাস্তি এড়ানো যাবে না।’

নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।’

এসএইচ