প্রকট হচ্ছে জ্বালানি সংকট; বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি ঝুঁকছেন রাশিয়ানরা

ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে মস্কো

রাশিয়ার একটি পেট্রোল পাম্প
রাশিয়ার একটি পেট্রোল পাম্প | ছবি: রয়টার্স
0

জ্বালানি সংকট প্রকট হওয়ায়, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি ঝুঁকছে রুশ নাগরিকরা। এ কারণে বাড়তি ভিড় বৈদ্যুতিক গাড়ির শোরুমে। এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ডিজেল ও জেট ফুয়েল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাশিয়া। পাশাপাশি ভারত থেকে পেট্রোলও কিনছে মস্কো। তেলের পাম্পে ভোক্তাদের ভিড় বাড়তে থাকায় শৃঙ্খলা আনতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে স্থানীয় আধা-সামরিক বাহিনীও।

ওক্সানা ইয়াসিনস্কায়া— একজন রুশ নাগরিক। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়াজুড়ে জ্বালানি সংকট দিন দিন তীব্র হওয়ায়, সম্প্রতি ডিজেলচালিত গাড়ি ছেড়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনেছেন ইয়াসিনস্কায়া।

তিনি বলেন, ‘এর আগে কখনও বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার কথা ভাবিনি। ইচ্ছে ছিল বিদেশি গাড়ি কেনার। কিন্তু জ্বালানি স্টেশনের লম্বা লাইন দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছি।’

যেখানে রাশিয়ার তেলের পাম্পগুলোতে তীব্র হাহাকার, সেখানে সহজেই চার্জিং পয়েন্টগুলোতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি চার্জ করতে পারছেন চালকরা।

আরও পড়ুন:

শুধু ইয়াসিনস্কায়া নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে সৃষ্ট ভোগান্তি এড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি ঝুঁকছে অনেক রুশ নাগরিক। এ কারণে বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির শপগুলোতে।

এদিকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে ডিজেল ও জেট ফুয়েল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মস্কো। এছাড়া ভারতের থেকেও পেট্রোল কিনছে রাশিয়া।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেন, ‘ইউক্রেনের হামলার কারণে অনেক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের উৎপাদন কমেছে। তবুও সংকট এড়াতে আমরা সচল থাকা তেল শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন বাড়িয়েছি এবং সঞ্চিত জ্বালানি বাজারে সরবাহসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছি।’

আরও পড়ুন:

যুদ্ধের কৌশল হিসেবে সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন তেল স্থাপনাকে টার্গেট করছে কিয়েভ। এতে করে তেল সমৃদ্ধ রাশিয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে থেকেও, প্রয়োজনীয় ডিজেল ও গ্যাসোলিন পাচ্ছে না অনেকে। তেল পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা আনতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে আধা- সামরিক কসাক বাহিনীর সদস্যরাও।

এসএস