আঙ্কারা সম্মেলনের পরও সংঘাতেই নজর ন্যাটোর, বললো রাশিয়া

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা | ছবি: সংগৃহীত
0

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের পরেও জোটটি মস্কোর সঙ্গে সংঘাত এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের ওপরই মনোনিবেশ করে আছে বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। গতকাল (বুধবার, ৮ জুলাই) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এই কথা জানান। আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জাখারোভা বলেন, ৭ ও ৮ জুলাইয়ের এই সম্মেলন ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে যেভাবে ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা হিসেবে চিত্রায়িত করেছিলেন, তেমনটা হতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জোটের ইতিহাসে এটিকে যতই ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করুন না কেন, তেমন কিছুই ঘটেনি।’

জাখারোভা জানান, ন্যাটো আবারও রাশিয়াকে ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি আরও বলেন, জোটটির জন্য মস্কোর সঙ্গে সংঘাত এখন ‘অস্তিত্বের প্রশ্ন ও প্রথাগত ব্যবস্থার’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাখারোভা বলেন, ‘ন্যাটো এখনো সামরিক সক্ষমতা জোরদার এবং ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়ার ওপরই মনোযোগী।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ লাইনটি অপরিবর্তিত রয়েছে ইউরোপীয় মহাদেশের সামরিকীকরণ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ, রাশিয়ার সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতের প্রস্তুতি এবং অবশ্যই ইউক্রেনকে সহায়তা।’

জাখারোভা জানান, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো চলতি বছর ইউক্রেনকে ৭ হাজার কোটি ইউরো (৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার) সামরিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০২৭ সালেও অনুরূপ পর্যায়ে সহায়তা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে জোটটি।

তার যুক্তি, ন্যাটো তাদের অভ্যন্তরীণ অগ্রাধিকারের বদলে সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মিত্ররা কিয়েভের শাসন ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে প্রস্তুত। অথচ তারা বাড়তে থাকা আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলোর জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দিচ্ছে এবং ইউরোপের জনগণের কল্যাণে অপূরণীয় ক্ষতি করছে।’

জাখারোভা আরও বলেন, সম্মেলনে ঐক্যের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে মতবিরোধ বজায় রয়েছে। মার্ক রুটের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, ২০২৬ সালে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রুটে বলেছেন, এই পরিমাণ অর্থায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে না জোটটির শিল্প।

জাখারোভা বলেন, ‘ন্যাটোর কৌশলবিদরা যদি একটু থেমে ভাবতেন, তাহলে হয়তো তারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিতেন না, যা শুধু জোটের জন্যই নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।’

এএম