হাজার হাজার টন আমদানিকৃত পণ্যে ভরা সারি সারি গুদাম। কোথাও রাসায়নিক, কোথাও রঙ, কোথাও লুব্রিকেন্ট; আবার পাশেই সাধারণ ভোগ্যপণ্য। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রতিদিন এমন চিত্র দেখা যায়।
বন্দরের ৩৮টি গুদাম ও খোলা ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ৪৭ হাজার ৪৪০ টন হলেও বর্তমানে সেখানে মজুদ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ টন পণ্য। এই গুদামগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে এখনো কাটেনি শঙ্কা। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুন লাগার পর প্রতিবার তদন্ত হয়, কিন্তু ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পরিবর্তন চোখে পড়ে না।
ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আরও আধুনিক, যেহেতু কেমিক্যাল রাখা হয় সেগুলোকে ফোম, ফোম, ফোমের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়—এই ফ্যাসিলিটিগুলো নিশ্চিত করা। অথরিটি এগুলো তাদের মানে পরিদর্শনের পর বিবেচনা করা উচিত।’
২০১৬ সালের অক্টোবর আগুনে পুড়ে যায় কাপড়, রাসায়নিক, যন্ত্রাংশ, মোটর পার্টস, তুলাসহ শত কোটি টাকার পণ্য। সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে আগুনে কোটি টাকার পণ্য ধ্বংস হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতিবারই তদন্ত কমিটি হয়েছে, কিন্তু ক্ষতিপূরণ আর মেলে না।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ স্থলবন্দরের যে অগ্নি নির্বাপণতা যে ক্ষমতাটা আছে, সেটা অত্যধিক না এবং বেনাপোলে যে ফায়ার সার্ভিস আছে, সেই ফায়ার সার্ভিস দিয়ে ক্ষণিকের জন্য কিছু কাজ চলে, তাছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেই।’
আরও পড়ুন:
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘যতবার আগুন লেগেছে, ব্যবসায়ীরা অনেক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ পণ্য পুড়ে যায় আমদানিকৃত। এই আমদানিকৃত পণ্য পুড়ে যাওয়ার পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এতে ব্যবসায়ীরা অনেক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বন্দরের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানো, দাহ্য পণ্যের আলাদা গুদাম এবং আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।
যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘এই মাল রাখার ব্যবস্থাপনা যদি নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে একটু খেয়াল রাখা হয়, তাহলে অন্তত মালগুলো সেফটি থাকবে এবং আপনার এখানে দুর্ঘটনার হার কম থাকবে।’
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিটি গুদামে ফায়ার হাইড্র্যান্ট ও ফায়ার পাম্প রয়েছে। নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে, বন্দর ফায়ার সার্ভিসে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করেন ফায়ার পরিদর্শক।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে শতাধিক ফায়ার হাইড্রেন্ট আছে। ফায়ার যেকোনো সময় হতে পারে, অগ্নি দুর্ঘটনা হতে পারে; তার জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের সব ধরনের ইকুইপমেন্ট রয়েছে।’
বেনাপোল স্থলবন্দরের ফায়ার পরিদর্শক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘এই জনবলের জন্য এখন নয়, অনেক আগে থেকেই এই জনবলের চাহিদা বিবেচনা করে প্রযোজ্যতা সাপেক্ষে আমাদের পরিচালক ট্রাফিক মহোদয় আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একটি আবেদনের মাধ্যমে অবগত করেন।
গত এক দশকে বন্দরে অন্তত আটটি অগ্নিকাণ্ডে ৩৫০ কোটির টাকারও বেশি মূল্যের আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের।





