দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই মলদোভার প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগ

আলেক্সান্দ্রু মুন্টিয়ানু
আলেক্সান্দ্রু মুন্টিয়ানু | ছবি: সংগৃহীত
0

মলদোভার প্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্দ্রু মুন্টিয়ানু হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির সরকারেরও পতন ঘটেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি কোম্পানিতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে চাপ বাড়ার মধ্যে গত নভেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসা এই প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়লেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ (শুক্রবার, ৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ৬৫ বছর বয়সি মুন্টিয়ানু বলেন, ‘যখন বুঝতে পারলাম নিজের নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে পারছি না, তখন সরে দাঁড়ানোই শ্রেয় মনে করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমি দেশের সেবা চালিয়ে যাব।’ তবে পদত্যাগের নির্দিষ্ট কোনো কারণ তিনি ব্যাখ্যা করেননি। এই ঘটনা প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু এবং তার ইউরোপপন্থি ‘পার্টি অব অ্যাকশন অ্যান্ড সলিডারিটি’র (পিএএস) জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দলটি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে।

মলদোভার পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সান্দু এখন সংসদীয় দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দেবেন। প্রেসিডেন্ট শুক্রবার জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত মুন্টিয়ানু দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন এবং আগামী সপ্তাহে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে। মুন্টিয়ানু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পিএএস রাশিয়াপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করার পর প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।

সরকার পতনের নেপথ্যে রয়েছে ‘মোল্ডএটিএসএ’ নামের একটি রাষ্ট্রীয় বিমান চলাচল কোম্পানিতে দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক নিজের জীবনবৃত্তান্ত জাল করেছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্টের এক আত্মীয়কে সরাসরি জনসংযোগ পদে নিয়োগ দিয়ে তার বেতন মলদোভার গড় মজুরির আট গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই অভিযোগ তদন্তে বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সান্দু দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিলেন এবং কোনো ধরনের চাপে ছিলেন না।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ প্রত্যাশী দেশ মলদোভার অবস্থান ইউক্রেন ও ইইউ সদস্য রোমানিয়ার মাঝে। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা ইউরোপপন্থি এবং মস্কোপন্থি দলগুলোর মধ্যে হাতবদল হয়ে আসছে। এই সরকার পতনের ঘটনা দেশটির ইইউ যাত্রায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এএম