রঙিন সুতোর টান আর সেলাই মেশিনের অবিরাম ছন্দ। বাইরে থেকে সাধারণ দর্জিবাড়ি মনে হলেও, উত্তর মেসিডোনিয়ার এ ‘ডেপাকন’ কারখানায় ঘটছে এক নীরব বিপ্লব। যেখানে মাঠের ফুটবল জার্সি রূপ নিচ্ছে মাথার টুপি কিংবা ফ্যাশনেবল ব্যাগে।
ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট শেষ হওয়া মাত্রই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয় প্রায় ২ কোটি পিস কাপড়ের বর্জ্য! স্পন্সর বা কিট পার্টনার বদলে গেলেই দলগুলোর কোটি কোটি টাকার অবিক্রীত নতুন জার্সি স্রেফ পুড়িয়ে বা কেটে ধ্বংস করে ফেলা আইনি নিয়ম। কিন্তু ডাচ কোম্পানি এফসি-৮৮ সঙ্গে মিলে এ ধ্বংস হতে যাওয়া নতুন স্পোর্টসওয়্যারগুলোকে বাঁচিয়ে দিচ্ছে ডেপাকন
কারখানায় কর্মরত একজন বলেন, ‘যখন একটা বিশ্বকাপের পর প্রায় ২০ মিলিয়ন পিস কাপড়ের বর্জ্য পড়ে থাকে, মানুষ তখন সমস্যার ভয়াবহতা বোঝে। আমরা সেই বর্জ্যের একটা সমাধান দিচ্ছি। স্পন্সর বদলালে যে পোশাকগুলো আইনি নিয়মে ধ্বংস করার কথা, আমরা সেগুলো দিয়ে ব্র্যান্ড নিউ কালেকশন তৈরি করছি। পুরনো কাপড় নয়, আমরা একদম নতুন জার্সি কেটে টুপি-ব্যাগ বানাচ্ছি।’
আরও পড়ুন:
এখানে প্রতিটি পণ্য তৈরিতে মাথায় রাখা হয় ফুটবলের আবেগ। জার্সির মূল নকশা, লোগো কিংবা স্ট্রাইপ-কোনো কিছুই নষ্ট করা হয় না। মাত্র ৭ জন কর্মীর এ ছোট কারখানায় মাসে তৈরি হচ্ছে ৩ হাজারেরও বেশি আপসাইকেলড পণ্য, যার মূল বাজার নেদারল্যান্ডস। আর এই গর্বের অংশীদার কারখানার কর্মীরাও।
কারখানায় কর্মর অন্য আরেকজন বলেন, ‘আমরা সত্যিই খুব গর্বিত। পুরো মেসিডোনিয়াতে এভাবে কাপড়ের পুনর্ব্যবহার করে এমন পণ্য তৈরি করতে আমি আর কাউকে দেখিনি। আমরাই প্রথম এবং একমাত্র কোম্পানি যারা এ কাজটা করছি।’
ফুটবলের উন্মাদনা যেখানে শেষ, পরিবেশ রক্ষার এই নান্দনিক লড়াই যেন শুরু ঠিক সেখান থেকেই। ধ্বংসের হাত থেকে জার্সি বাঁচিয়ে তৈরি করা এই ব্যাগ আর টুপিগুলো আজ বিশ্বকে দেখাচ্ছে সাস্টেইনেবল বা পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের এক নতুন দিগন্ত





