চিফ হুইপ দেশের সাম্প্রতিক বাজেট অধিবেশন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
মো. নূরুল ইসলাম জানান, স্বাধীনতার পর এবারই প্রথমবারের মতো আগাগোড়া পুরো বাজেট অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে বিরোধীদল। তিনি বলেন, ‘এবারের বাজেট অধিবেশনে মোট সময়ের ৩১ শতাংশ জুড়েই কথা বলেছে বিরোধীদল। আমরা সংসদীয় গণতন্ত্রের সুবাতাস বজায় রাখতে সব নেতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতার বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের বহুল ব্যবহৃত সাইকেলের ওপর ট্যাক্স (কর) ছাড় দেয়া হয়েছে। সরকারি ও বিরোধীদল উভয় পক্ষই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন
চলতি বাজেটকে কেন্দ্র করে বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, ‘বাজেট শুরু হওয়ার আগে কিংবা পরে বাজারে কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। তাছাড়া সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে মোট ৬৩টি আইটেমের ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি।’
বিগত শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথাকথিত মেগা প্রজেক্টের নামে মূলত মেগা দুর্নীতি হয়েছে। অন্যদিকে আমাদের নেতা তারেক রহমান এখন দেশ বাঁচানোর প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘দেশে টাকা পাচার রোধ এবং দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হলে বাজেটে কোনো ধরনের টাকার ঘাটতি থাকবে না।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে দেশজুড়ে আর কোনো হাহাকার বা আর্তনাদ নেই। দেশে এখন কোনো অভাব ও চরম দারিদ্রতা নেই, মানুষ অত্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নজরদারি বন্ধ হওয়ায় এখন আর সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনে কথা বলতে কোনো ভয় কাজ করে না।’
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকারের মিতব্যয়িতা ও জনবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে জানান, দেশে চলমান হাম রোগে শিশু মৃত্যু এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী ডিনারের (নৈশভোজ) জমকালো আয়োজনটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছেন।





