গেল কিছুদিন ধরেই তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন জার্মানি, রোমানিয়া, সার্বিয়া, হাঙ্গেরিসহ ইউরোপের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল। নজিরবিহীন এই দাবদাহ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট হিট ডোম বা উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে এই অঞ্চলগুলোতে এরইমধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে।
বলকান অঞ্চলে মানুষ তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে সমুদ্র সৈকত ও ঝর্ণার আশ্রয় নিয়েছে। বুদাপেস্ট পুলিশ ও দমকলকর্মীরা সেখানকার বাসিন্দাদের ওপর জলকামান ব্যবহার করে পানি ছিটিয়ে বাসিন্দাদের ভয়াবহ দাবদাহ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
বলকান অঞ্চলের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রচণ্ড গরমে শহরে ঘুরাঘুরি করাটা খুবই ক্লান্তিকর। বিশেষ করে রাস্তায় শরীর ঠাণ্ডা করার মতো কোন ছায়া থাকে না। পাতাল রেলে যাতায়াত করাটা তুলনামূলকভাবে ভালো, কারণ সেখানে বেশ ঠাণ্ডা থাকে। প্রচণ্ড গরমে সবকিছুই অস্বস্তিকর।
এদিকে, ইউরোপের পাশাপাশি তীব্র দাবদাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য। এতে, বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি। মারাত্মক তাপপ্রবাহের কারণে নিউইয়র্ক, মিসৌরিসহ দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যেই হিট ইমারজেন্সি জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, চলতি সপ্তাহে ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক সিটিসহ কিছু জায়গার তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে।
নিউইয়র্কবাসীর তীব্র ভোগান্তি এড়াতে সিটি মেয়র জোহরান মামদানি তার জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। নগরবাসীর জন্য শত শত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। পাবলিক পুল ব্যবহারের সময় বাড়ানো হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নিউ ইয়র্ক সিটির তাপপ্রবাহজনিত জরুরি অবস্থা ৪ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছি। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে ২০১০ সালের পর উষ্ণতম ৪ঠা জুলাই আমাদের সামনে। পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি আমাদের শহরের প্রতিটি জায়গাকে প্রভাবিত করবে। গত সপ্তাহ থেকে, আমাদের নগর সংস্থাগুলো নিউইয়র্কবাসী এবং পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে কাজ করছে।
মামদানি জানিয়েছেন, ২০১০ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণতম ৪ঠা জুলাই হতে পারে এবারের দিনটি। এসময় নিউইয়র্কবাসী ও পর্যটকদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, স্যাটেলাইট ফুটেজে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর কর্নারস অঙ্গরাজ্যজুড়ে দাবানলের আগুন এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাসাগরগুলোতে এ যাবৎকালের উষ্ণতম জুন মাস অতিবাহিত হয়েছে। এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা আরও বাড়ায় আগামী মাসগুলোতে মহাসাগরে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়।





