যশোর সদরের কোদালিয়া গ্রামের ইখতার আলীর স্ত্রী রূপা খাতুন নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠান ‘রেইনবো এগ্রো ফুড’। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বাড়িতে নানা রকমের আচার, জ্যাম-জেলি, কুমড়োর বড়ি, গুড়-পাটালিসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে আসছেন। এ বছর নতুন করে শুরু করেছেন, কাঁঠালের চিপস বানানো।
উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নানান ধরনের আচার তৈরি শুরু করেন রূপা খাতুন। এরই মধ্যে তিনি ‘প্রিজম এগ্রো অ্যান্ড ফুড’ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন কাঁঠালের চিপস তৈরি।
কাঁঠালের কোষ থেকে বিচি বের করে চিপসের আকারে কেটে, তেলে ভাজার পর মসলা মিশিয়ে প্যাকেটজাত করা হয়। প্রতিদিন গড়ে তিনশ প্যাকেট চিপস তৈরি করেন রূপা। খরচ বাদে গড়ে মাসে ২০ হাজার টাকা আয় হয় তার। এ প্রক্রিয়াটি মেশিনে করতে প্রয়োজন ভ্যাকুয়াম প্রাইম, ডি অয়েলিং এবং প্যাকেজিং মেশিন দরকার। যার জন্য সরকারি সহযোগিতা চান রূপা।
উদ্যোক্তা রূপা খাতুন বলেন, ‘ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে আমরা কেউই কাঁঠালটা পছন্দ করি না। এর বিকল্প কী আছে? সেই কথা চিন্তা করেই আমার এ কাঁঠালের চিপস তৈরি করা। যাতে সারা বছর পুষ্টির চাহিদাও মেটানো যায়, তারপর আপনার অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারব এবং দেশের জন্যও কিছু করতে পারব। ছেলে-মেয়েরা হচ্ছে অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে শিক্ষিত হয়ে বেকার ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তাদের উদ্দেশে বলব, যে চাকরির পিছনে না ঘুরে তারা যেন উদ্যোক্তা হয়।’
এতে নিজ পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি প্রতিবেশীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রামের অনেক মহিলা কাঁঠালের চিপস তৈরির কাজ করে অর্থ উপার্জন করছেন। স্থানীয় একজন বলেন, ‘তার কাছে থেকে অনেক লোক কাজ করছে। এতে আমাদের কিছু পারিশ্রমিক আসে।’
কাঁঠাল থেকে চিপস তৈরিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছে কৃষি বিভাগ। সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক প্রতাপ মন্ডল বলেন, ‘আমাদের কৃষক যেন বেশি পরিমাণে দাম পায়, এজন্য আমরা কাঁঠালের বিকল্প ব্যবহার—আচার, তারপরে আমরা চিপস— এগুলো তৈরির মাধ্যমে বহুমুখী ব্যবহার করে কাঁঠালের দাম যাতে বেশি পায়, এ ধরনের প্রশিক্ষণ আমাদের সচল আছে।’
যশোর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, ‘চিপস হয়, বার্গার হয়, বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী কাঁঠাল থেকে তৈরি হচ্ছে। সেটা যদি আমরা আরও জনসাধারণের মাধ্যমে প্রচার এবং উৎপাদনের তৈরি করার কৌশল শেখাতে পারি, তাহলে কিন্তু এটি আরও জনপ্রিয় হবে।’
কাঁঠালে অনেক পুষ্টিগুণ, পরিমিত খেলে পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। তবে ঠিক মত সংরক্ষণের পরামর্শ দিলেন এ চিকিৎসক।
যশোর ২৫০ শয্যা বৈশিষ্ট্য জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘ঠিকমতো সংরক্ষণ করতে না পারলে তো পুষ্টিগুণাগুণ একটু কমতে পারে, সেখানে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে যদি জীবাণু সংক্রমণ হয় ঠিকমতো যদি না করা যায়। তবে হ্যাঁ, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সেই সংরক্ষিত কাঁঠালটাকে যদি খাওয়া যায়, সেটা বেটার হবে।’
এক সময় যারা সমালোচনা করতেন; এখন তারাই রূপা খাতুনের কাঁঠালের চিপস তৈরির কাজ দেখতে আসেন।




 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)
