জুলাইয়ের ন্যাটো সম্মেলনের আগে ইউরোপীয় নেতাদের ঐক্যের ডাক

বার্লিনে ইউরোপীয় গ্রুপের (ই-৫) সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধানরা
বার্লিনে ইউরোপীয় গ্রুপের (ই-৫) সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধানরা | ছবি: এখন টিভি
0

আগামী মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের আগে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিবাদ কাটিয়ে উঠতেই গতকাল (বুধবার, ২৪ জুন) বার্লিনে এক বৈঠকে মিলিত হন তারা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস আঙ্কারা সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি এবং পোল্যান্ডের নেতাদের বার্লিনে আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে মের্ৎস বলেন, আগামী ৭-৮ জুলাইয়ের ন্যাটো সম্মেলন হবে প্রতিরক্ষায় ইউরোপের শক্তিশালী নেতৃত্বের ভূমিকা প্রদর্শনের মাহেন্দ্রক্ষণ। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ন্যাটোর জোটকে আরও আধুনিক করতে চাই এবং এর ইউরোপীয় স্তম্ভকে শক্তিশালী করছি।’ বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে নেতারা ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের প্রতি তাদের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তবে এই ঐক্যের বার্তার আড়ালে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে কিছু গভীর মতভেদও রয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সের যৌথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প ‘এফসিএএস’কৌশলগত ও ব্যবস্থাপনাগত বিরোধের কারণে বাতিল হয়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার হুমকিতে ইউরোপ যখন নিজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের অনৈক্য বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন ন্যাটোর সমালোচনা করে বলেছে যে, ইরান যুদ্ধে সহায়তা না করায় তারা ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে আনার কথা ভাবছে।

জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন—এই তিন দেশ (ই-থ্রি) নিজেদের মধ্যে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখায় ইতালি ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোও কিছুটা অসন্তুষ্ট ছিল। তবে মের্ৎস বুধবার স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো একক জাতীয় পদক্ষেপ প্রতিরক্ষা নীতির জন্য ভুল হবে এবং সবাইকে একজোট হয়ে পথ চলতে হবে। তিনি জানান, আলোচনার বিষয়ে তিনি ট্রাম্প এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলবেন।

বৈঠকে নেতারা বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে উষ্ণ সম্মান জানান। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে স্টারমারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তিনি বলেন, ‘আপনার কাজের জন্য আমরা মুহূর্তের জন্য হলেও ব্রেক্সিট ভুলে থাকতে পেরেছি। আমি আপনাকে দীর্ঘকাল মনে রাখবো।’

এএম