ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক ও লেবানন ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরোধ ওয়াশিংটন-তেল আবিবের বন্ধুত্বে যে চিড় ধরাতে যাচ্ছিলো তা পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা।
সাম্প্রতিক বেশকিছু জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলিদের কর্মকাণ্ডে আস্থা হারাচ্ছে মার্কিনীরা। আবার তেল আবিবের সবচেয়ে বড় সমর্থক ওয়াশিংটনও তার নিজের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত।
এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেমেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। সাম্প্রতিক মন কষাকষির কথা স্বীকার করলেও দাবি করেন তেল আবিবের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ফক্স নিউজের কমেন্টেটর মার্ক লেভিন ট্রাম্পের একান্ত সমর্থক হওয়ার পরেও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষা হয়নি। এরপরেও মানবিকতার দোহাই দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যে কোনো সমালোচনাকেই ইহুদি বিদ্বেষ হিসেবে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন কট্টরপন্থী জায়োনিস্ট সমর্থকরা। এমন অভিযোগ এসেছে রিপাবলিকান শিবির থেকে। উল্টোদিকে ডেমোক্রেটরা বরাবরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। এমন প্রেক্ষাপটে নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় রেডিও সঞ্চালক সিড রোজেনবার্গের দাবি, ইসরাইলের জন্য ট্রাম্পের চেয়ে ভাল কোন বিকল্প নেই, এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতেন বলেও মনে করেন রোজেনবার্গ।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের গেল মার্চের একটি জরিপ অনুযায়ী, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী রিপাবলিকানরা ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখলেও, তরুণ আমেরিকানরা ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান বা এর সমর্থকদের প্রায় ৫৭ শতাংশই ইসরাইলকে পছন্দ করেন না, ২০২৫ এর চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে, গেল ফেব্রুয়ারি এবং এর আগে ২০২৫ এর জুনে ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে যৌথ হামলার সময় ডেমোক্রেটরা ছাড়াও রিপাবলিকান সমর্থকরা চটেছিলেন ট্রাম্পের ওপর। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার ভিক্টোরিয়া কোটসও স্বীকার করেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন চাপের মুখে। কারণ, ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে আরও বেশি তিক্ত হয়ে যাচ্ছে।
যদিও নেতানিয়াহুর মিত্রদের দাবি, ট্রাম্প বা জেডি ভ্যান্সের তীর্যক মন্তব্য নিয়ে চিন্তিত নয় তেল আবিব। তারা আশা করেন, এর জেরে ইসরাইলকেন্দ্রিক যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কিংবা অস্ত্র সরবরাহের মতো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে তেমন কোনো বদল আসবে না। যদিও তাদের পর্যবেক্ষণ একসময় হোয়াইট হাউজে ইসরাইলপন্থী প্রেসিডেন্ট থাকবেন না। সেই দিনের জন্য তেল আবিবকে প্রস্তুত থাকতে হবে।





