একপাশে কর্ণফুলীতে ছোট-বড় নৌকা, বাণিজ্যিক জাহাজ- অন্যপাশে ছায়াঘেরা সবুজের মাঝে পিচঢালা পথ। শীতল হাওয়া আর নান্দনিক সৌন্দর্যের এই হাতছানি; কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে সড়ক উন্মুক্ততৈরি হওয়া নতুন আউটার রিং রোডের। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ সড়ক আনছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। সাড়ে আট কিলোমিটারের এই রিং রোড ধরে কালুরঘাট থেকে মাত্র ১০ মিনিটে পৌঁছানো যাবে কর্ণফুলী সেতুতে- যা পার হতে বর্তমানে সময় লাগছে প্রায় ১ ঘণ্টা। কাপ্তাই রাস্তার মাথা হয়ে এ সড়ক যোগ করবে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামকে। যোগাযোগের এই নতুন দিগন্তের সাথে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। এই সড়ককে ঘিরে সিডিএ গড়ে তুলছে 'কর্ণফুলী রিভারভিউ পার্ক'। ৫ কিলোমিটার জুড়ে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেনের পাশাপাশি রয়েছে পর্যটকদের বসার গ্যালারি।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করি আমাদের যে মূল ফোকাসিং ছিল, ডিসেম্বরের ভেতরে এই প্রকল্প শেষ করা; মূল কাজ আমরা শেষ করে ফেলব ইনশাআল্লাহ। আর এখানে আপনি জানেন এখানে, অধিগ্রহণে অর্থায়নের একটা বিষয় ছিল। এটা আমাদের মন্ত্রী মহোদয়সহ আলোচনা করে আমরা এই সমস্যার সমাধান করে ফেলবো।’
প্রায় ২৫ ফুট উঁচু এ সড়ক চট্টগ্রামের দুঃখ 'জলাবদ্ধতা'র বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে। পাল্টে যাবে কিছুটা অনুন্নত বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও মোহরা এলাকার দৃশ্যপট। আবাসন ও বাণিজ্যিক খাতে অপার সম্ভাবনা দেখছেন চেম্বারের এই কর্মকর্তা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘ট্রাক, এই কাভার্ড ভ্যান—এগুলো রাখার জন্য কোনো টার্মিনাল নেই। এটা যদি একটা বড় টার্মিনাল সরকারের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে এখানে ড্রাইভার বেনাপোল থেকে এখানে আসলো বা এখান থেকে বেনাপোল যাবে, তাদের একটা রেস্টেরও প্রয়োজন আছে। এ ধরনের একটা ব্যবস্থা যদি করে দেয় টার্মিনালের মাধ্যমে সাথে সাথে, তাইলে এটাও একটা ভালো হয় আরকি।’
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা।
একপাশে অপরূপ কর্ণফুলী অন্যপাশে চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত। দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষা শেষে, চার লেনের এ সড়কটি হতে যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য আর আধুনিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই সাধারণের চলাচলের জন্য এ সড়ক উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।





