ঢাবির ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

বরখাস্ত ঢাবির ৪ শিক্ষক
বরখাস্ত ঢাবির ৪ শিক্ষক | ছবি : সংগৃহীত
0

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘হুমকি’ দেয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন হেভিওয়েট শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপর এক শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল ও আলোচিত বাংলা বিভাগের আরেক শিক্ষককে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তীব্র অভিযোগের মুখে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

গতকাল (সোমবার, ২২ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাময়িক বরখাস্ত ও অব্যাহতি পেলেন যারা

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া তিন শিক্ষক হলেন:

১. অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ (লোকপ্রশাসন বিভাগ)

২. অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)

৩. অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগ)

একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে সমস্ত একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) একই অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন:

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার স্পষ্ট মতামতের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত এই চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অধিকতর তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভায় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে বিভাগের একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী যাবতীয় একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হন, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হওয়া ছাত্রলীগের (বর্তমান নিষিদ্ধ সংগঠন) সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব না থাকায় তার ডাকসুর পদও বাতিল করার সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের নভেম্বরে গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তা বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জিএস পদ অবৈধ ঘোষণার সুপারিশ করেছিল একাডেমিক কাউন্সিল।

এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) শিক্ষক ওয়াসেল বিন সাদাত এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এরশাদ হালিম—এই দুজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। গতকালের সিন্ডিকেট সভায় তাদের চূড়ান্ত শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এফএস