জনপ্রিয়তা হারিয়ে বিদায় নিচ্ছেন স্টারমার; ইউরোপীয় নেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন | ছবি: রয়টার্স
0

জনপ্রিয়তা কমার মুখে গতকাল (সোমবার, ২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে নিজ দেশে সমালোচিত হলেও ইউরোপীয় নেতাদের কাছ থেকে উষ্ণ বিদায়ী বার্তা পেয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক পূর্বসূরিদের তুলনায় স্টারমারের সঙ্গে কাজ করা অনেক সহজ ছিল বলে মনে করেন ইউরোপের অনেক শীর্ষ নেতা।রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পর স্টারমারই ছিলেন প্রথম অ-রক্ষণশীল (নন-কনজারভেটিভ) প্রধানমন্ত্রী। তিনি পুনরায় ইইউতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও ব্রেক্সিট পরবর্তী তিক্ততা কাটিয়ে সম্পর্কের উন্নয়নে জোর দিয়েছিলেন। এছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে মিলে ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন স্টারমার।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, ‘ইউরোপ ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা আজ আপনার কারণে আরও শক্তিশালী। ধন্যবাদ প্রিয় কিয়ার।’ আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনও ব্রিটেন-আয়ারল্যান্ড এবং ব্রিটেন-ইইউ সম্পর্ক পুনর্গঠনে স্টারমারের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে ‘সব সময় পাশে থাকা’ একজন বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে ইউক্রেনে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে স্টারমারের এই বিদায়ে আটলান্টিকের ওপার থেকে আসা বার্তাটি মোটেও সুখকর ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পদত্যাগের এক দিন আগেই বিদ্রুপ করে বলেছিলেন, অভিবাসন ও জ্বালানি ইস্যুতে স্টারমার ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’ হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ স্টারমারের বিদায়ের কৃতিত্ব দাবি করে দাবি করেছেন, তার যুদ্ধবাজ নীতি এবং অভিবাসন ও অর্থনীতি নিয়ে ভুল পদক্ষেপগুলো প্রকাশ করে দেয়ার মাধ্যমেই এই পতন নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালে এক বিধ্বস্ত অর্থনীতি এবং ব্রেক্সিট পরবর্তী বিভক্ত জাতিকে এক করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন স্টারমার। তবে অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের মতোই তিনিও মূলধারার রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ ভোটারদের মন জয় করতে হিমশিম খেয়েছেন। নিজ দেশে তার ওপর জনগণের আস্থার সংকট থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।

এএম