মালাক্কা প্রণালির বিকল্প হিসেবে ৩০ বিলিয়ন ডলারের ‘ল্যান্ড ব্রিজ’ প্রকল্প থাইল্যান্ডের

থাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত ‘সাউদার্ন ল্যান্ড ব্রিজ’ প্রকল্পের মানচিত্র
থাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত ‘সাউদার্ন ল্যান্ড ব্রিজ’ প্রকল্পের মানচিত্র | ছবি: রয়টার্স
0

ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে একটি উচ্চাভিলাষী ‘ল্যান্ড ব্রিজ’ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করেছে থাইল্যান্ড। মালয় উপদ্বীপের এক প্রান্তের বন্দর থেকে অন্য প্রান্তের বন্দরে পণ্য পরিবহনের লক্ষ্য নিয়ে এই ৩০ বিলিয়ন (৩ হাজার কোটি) ডলারের লজিস্টিক করিডোর নির্মাণের প্রস্তাব করেছে দেশটির সরকার।রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এই প্রকল্পটি ফের সামনে এনেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ মালাক্কা প্রণালির বিকল্প তৈরি করা। পরিকল্পনায় থাইল্যান্ড উপসাগরের পূর্ব দিকে চুমফন বন্দর এবং পশ্চিমের আন্দামান উপকূলে রানোং গভীর সমুদ্রবন্দরের মধ্যে একটি লজিস্টিক সংযোগ স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। রয়টার্সের কাছে থাকা থাই সরকারের এক অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, এই করিডোরটি দক্ষিণ চীন থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য পরিবহনের সময় ১৪ দিন পর্যন্ত কমিয়ে দেবে।

এই প্রকল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি স্ট্যান্ডার্ড-গেজ রেলপথ, যা বছরে ২ কোটি টিইউ (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনারের পরিমাপ) পণ্য পরিবহনে সক্ষম হবে। থাই সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরসহ মালাক্কা প্রণালির প্রধান বন্দরগুলোতে আসা প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্যই অন্য জাহাজে স্থানান্তরের জন্য অপেক্ষা করে। থাইল্যান্ড এই বাজারের একটি বড় অংশ ধরতে চায়। তাদের দাবি, ল্যান্ড ব্রিজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন সিঙ্গাপুরের তুলনায় ১০ শতাংশ সস্তা এবং ৬ দিন দ্রুত হতে পারে।

তবে প্রকল্পটির সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিপুল এই বিনিয়োগের জন্য এখনো বড় কোনো বিনিয়োগকারী পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডকে এটি বাস্তবায়নে জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ মোকাবিলা করতে হবে। সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইশাক ইনস্টিটিউটের ইউজিন মার্ক বলেন, এটি শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি কৌশলগত সম্পদে পরিণত হতে পারে।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। করিডোর এলাকার বাসিন্দা, বিশেষ করে মৎস্যজীবী ও কৃষকেরা তাদের জীবিকা হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। রানোং উপকূলের ৫০ বছর বয়সী মৎস্যজীবী চাইয়াপর্ন অরুনরাসামি বলেন, ‘আমি চাই না এটি হোক। যে এলাকায় আমরা জীবিকা নির্বাহ করি, সেখানেই এটি তৈরি করা হবে। তখন আমরা কোথায় যাব?’ এছাড়া দুর্লভ সামুদ্রিক প্রাণীর ঘনত্ব নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি গবেষণায় অমিল থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নতুন করে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে, যা প্রকল্পের গতি ধীর করে দিতে পারে।

এএম