তেঁতুলিয়ায় পানি সংকট, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

পানি সঙ্কটে তেঁতুলিয়াবাসী
পানি সঙ্কটে তেঁতুলিয়াবাসী | ছবি: এখন টিভি
1

সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। নদীগুলোও পানিশূন্য। তেঁতুলিয়ার কয়েকটি এলাকায় পানি সংকট চলছে কয়েক বছর ধরে। খাবার পানি থেকে শুরু করে নিত্য দিনের ব্যবহারের পানি জোগানে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। টিউবওয়েলের পাশাপাশি পাম্প বসিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

তেঁতুলিয়া উপজেলার মহানন্দার বুকে নেই জল। তার প্রভাবে নদী তীরবর্তী সিদ্দিকনগরেও নেমে গেছে পানির স্তর। একটি মাত্র টিউবওয়েলে মিলছে পানি। গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের খাওয়া, রান্না ও গোসলের কাজ চলে এ টিউবওয়েলেই। ভিড় থাকায় অনেকক্ষণ লাইনেও দাঁড়াতে হয়।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমাদের এখানে তো যে সারাবছরই পানির সংকট। মহানন্দার পাশেই আমাদের একটা টিউবওয়েল আছে। এটা মনে করেন ওই যখন বর্ষা আসে, তখন কিছুদিন আরকি চলে। তারপরে আবার পানি থাকে না।’

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালের অল্প কয়েকদিন বাদে বেশিরভাগ সময় পানির জন্যে লড়াই করতে হয় তাদের। বাড়ির টিউবওয়েলে উঠে না পানি। পাম্প স্থাপন করলেও কাজে আসছে না। এভাবেই ভোগান্তি নিয়ে কাটছে বছরের পর বছর। কষ্ট বেশি নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষের। সরকার যেন অতি শীঘ্রই এখানে পানির ব্যবস্থা করে তার দাবি জানান স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন

নদীতে জল না থাকা, ভূগর্ভস্থ পানির নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের ফলে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে বলে জানান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা।

পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘বড় একটা সমস্যা হচ্ছে আমরা মানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি যেটা উত্তোলন করি। সারা বাংলাদেশেই এটা একটা প্রভাব আমরা লক্ষ্য করছি।’

খাবার পানি থেকে শুরু করে স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আমি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে উনাকেও বারবার বলেছি যে, উনার ডিপার্টমেন্ট থেকে যেহেতু আসবে তাই ডিপার্টমেন্টে একটু খোঁজ নেয়ার জন্য বলেছি। ওইটা আসলেই আমরা আমাদের যে পানির সমস্যাটা আছে এটা ইনশাল্লাহ সমাধান করতে পারব।’

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সবচেয়ে উঁচু জেলার একটি পঞ্চগড়। পানির এই সংকট আগামী দিনের জন্য বড় শঙ্কার খবর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাই পানি সরবরাহের ব্যবস্থার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পরিমিত ব্যবহারের দাবিও জানান তারা।

জেআর