অভিবাসন নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’, বদলে যাচ্ছে আয়ারল্যান্ডের আবাসন চিত্র

আয়ারল্যান্ডের আবাসন নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’
আয়ারল্যান্ডের আবাসন নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ | ছবি: এখন টিভি
0

ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ড এখন আর কেবল ভাগ্যান্বেষণের জায়গা নয়, বরং এটি এখন পরিকল্পিত অভিবাসন ব্যবস্থার দেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনিয়মিত অভিবাসনের জন্য ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আয়ারল্যান্ড সরকার। এতে করে বাংলাদেশি আশ্রয় প্রার্থীরা বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবে। তবে দক্ষ শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে মিলবে কাজের সুযোগ।

ইউরোপের সবুজে ঘেরা আয়ারল্যান্ড এখন বিশ্বজুড়ে অভিবাসীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এ আয়ারল্যান্ডে অভিবাসন নীতিতে আসছে আমূল পরিবর্তন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আয়ারল্যান্ড তাদের অভ্যন্তরীণ কঠোরতা বাড়াচ্ছে। ২০২৪ সালে পাস হলেও, দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে পুরোপুরি কার্যকর হওয়া কথা আইনটির।

নতুন এ আইনের মাধ্যমে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াকে ১৭ মাস থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে ৯০ দিনে। আইনটি কার্যকর করতে মোট নয়টি নতুন ধাপ চালু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সীমান্ত স্ক্রিনিং, ডিটেনশন ও রিটার্ন পদ্ধতি। সরকারের লক্ষ্য পরিষ্কার, প্রকৃত শরণার্থীদের সুরক্ষা দেয়া এবং অর্থনৈতিক অভিবাসনের উদ্দেশ্যে যারা আশ্রয়ের অপব্যবহার করছেন, তাদের দ্রুত বিদায় করা।

আরও পড়ুন

এদিকে, ইউরোপ ইউনিয়নের ঘোষণায় নিরাপদ দেশ হিসেবে বাংলাদেশিদের আবেদনগুলো ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশি আশ্রয় প্রার্থীদের সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা।

আয়ারল্যান্ড কর্ক হোম অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড মাইগ্রেশন পিস কমিশনার মো. আওলাদ হোসেন সোহেল বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের যে অভিবাসন আইন সংস্কার হয়েছে, এটা আসলে আয়ারল্যান্ড সরকার করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ জনসংখ্যা ঊর্ধ্বগতি, আবাসন সংকট এবং জনজীবন নিম্নমুখী হওয়ার কারণে আয়ারল্যান্ড সরকার তাদের জনগণকে নিয়ে খুবই সচেতন এবং সহনশীল। এ আইন হওয়ার কারণে আমি মনে করি যারা শরণার্থী হিসেবে অ্যাপ্লাই করতে চান, তাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং।’

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয়ারল্যান্ডে অভিবাসীদের আগমন রেকর্ড সংখ্যায় পৌঁছেছে। এতে করে চাপ বাড়ছে আবাসন ও সামাজিক সেবার ওপর । সরকারের লক্ষ্য অভিবাসীদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ।

মো. আওলাদ হোসেন সোহেল বলেন, ‘সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ দেশ হিসেবে ঘোষণা করছে। আয়ারল্যান্ডও তাদের অন্তর্ভুক্ত একটি দেশ, তাই তারা সেই নিয়ম মেনে চলবে। সেই অর্থে আশ্রয় আবেদন বাংলাদেশিদের জন্য অনেক কঠিন হয়ে যাবে।’

একদিকে যখন অবৈধ বা আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সরকার কঠোর হচ্ছে, কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, এবং কনস্ট্রাকশন খাতের জন্য বৈধ উপায়ে দক্ষ কর্মী নেয়া অব্যাহত রেখেছে আয়ারল্যান্ড।

স্বপ্ন আর বাস্তবতার দূরত্ব এখন আয়ারল্যান্ডে মাত্র একটি স্ট্যাম্পের ব্যবধানে। ২০২৬ সালের নতুন অভিবাসন আইন ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বদলে দিয়েছে পুরনো সব চেনা সমীকরণ। যারা ভাবছেন আয়ারল্যান্ডে পা রাখলেই মিলবে স্থায়ী ঠিকানা, তাদের জন্য সময়টা এখন চ্যালেঞ্জের।

জেআর