কানসাস সিটির স্টেডিয়ামে যখন বল গড়াবে, তখন কোটি কোটি চোখ থাকবে একজন মানুষের দিকে। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন তিনি। এবার তিনি ফিরেছেন শিরোপা রক্ষার অভিযানে, কিন্তু তার চেয়েও বড় বিষয়—এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি মেসির ষষ্ঠ আসর। ইতিহাসে খুব কম ফুটবলারই এমন দীর্ঘ যাত্রার সাক্ষী হতে পেরেছেন। আর তাই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও আবেগের এক নতুন সূচনা।
একসময় যে কিশোর বিশ্বকাপের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল, আজ সে ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি। হার, হতাশা, সমালোচনা, ব্যর্থতার পাহাড় পেরিয়ে অবশেষে কাতারে বিশ্বজয়ের হাসি হেসেছিলেন তিনি। এখন আর নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নেই। তবুও মেসি আছেন, কারণ প্রতিযোগিতা তার রক্তে। আর্জেন্টিনা কোচ লিউনেল স্কেলনি তাকে বলেছেন ‘প্রতিযোগিতার প্রাণী’।
আরও পড়ুন:
কানসাস সিটিতে ইতোমধ্যেই মেসিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছেন সমর্থকেরা। হোটেলের বাইরে অপেক্ষা, আকাশি-সাদা জার্সির ঢেউ, হাতে ক্যামেরা—সবকিছু যেন বলে দিচ্ছে, মানুষ জানে এই গল্পের শেষ অধ্যায় শুরু হয়ে গেছে।
কারণ, আরেকটি বিশ্বকাপ আসবে। নতুন তারকা আসবে। কিন্তু মেসির মতো একটি যুগের বিদায় আর কখনও ফিরে আসবে না।
গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার প্রথম বাধা আলজেরিয়া। এরপর অপেক্ষায় আছে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। লক্ষ্য একটাই—নকআউট পর্বে পৌঁছে আরও একবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখা।
কিন্তু ফল যা-ই হোক, এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ এখন স্মৃতির অংশ। প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি পাস, প্রতিটি গোল উদযাপন—সবকিছুই ফুটবল বিশ্বের জন্য হয়ে উঠছে বিদায়ের ফ্রেম।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন। আর একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে ফুটবলের এক সোনালি অধ্যায়ের শেষ যাত্রা। হয়তো ট্রফি নিয়ে, হয়তো ট্রফি ছাড়া—কিন্তু এই বিশ্বকাপ শেষে যখন মেসি বিদায় বলবেন, তখন শুধু আর্জেন্টিনা নয়, কাঁদবে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধুই একটি খেলা নয়। এটি একজন কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপের প্রথম পৃষ্ঠা। আর কোটি ভক্ত অপেক্ষায়—বিদায়টা যেন হয় আরেকটি রূপকথা দিয়ে।




