সুইস নাগরিকরা বলেন, আমরা ভুলে গিয়েছি দেশের সমৃদ্ধির পেছনে অভিবাসীদেরও অবদান রয়েছে। সুইজারল্যান্ডও এক অর্থে একটি অভিবাসী দেশ। অবশ্যই এর সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে। কিন্তু আমি এও বিশ্বাস করি, আমরা সেসব মানুষের ওপর নির্ভরশীল যারা এখানে এসে একটি বৈচিত্র্যময় সুইজারল্যান্ড গঠনে অবদান রাখেন।
সুইস ডানপন্থী রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি সমর্থিত এই উদ্যোগে ২০৫০ সাল পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা ১ কোটি অতিক্রম না করার প্রস্তাব রাখা হয়। এসভিপির দাবি, আগামী কয়েক দশক জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলে আবাসন, সরকারি চাকরি ও পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। টেকসই উদ্যোগটি কার্যকর হলে সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি।
এসভিপি বলেন, উদ্যোগটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রথমত, এটি পুরোপুরি দেশবিরোধী। তাছাড়া বিদেশিদের বলির পাঁঠা বানানো সব সমস্যার সমাধান। এটি তো প্রতারণামূলক। এটি টেকসই উন্নয়নের সমস্যার সমাধান করবে না। বরং সুইজারল্যান্ডকে দরিদ্র করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমাদের চুক্তিগুলো দুর্বল করে দেবে।
প্রস্তাবে বলা হয়, জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালে তা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ হিসেব সরকার আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমাবে, বিদেশি কর্মীদের পরিবার আনার অধিকার সীমিত করবে। আর জনসংখ্যা কোনভাবে এক কোটিতে পৌঁছালে ইইউ নাগরিকদের অবাধ চলাচলসহ কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি বাতিল করতে পারবে সরকার।
বিপরীতে কেন্দ্রীয় সরকারসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, এটি কার্যকর হলে হাসপাতাল, হোটেলসহ বিভিন্ন খাতে মারত্মক কর্মী-সংকট দেখা দেবে। প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সুইজারল্যান্ড-ইইউ-এর মধ্যে শ্রমের অবাধ যাতায়াত।
গেল কয়েক দশকে দেশটির জনসংখ্যা ৭৩ লাখ থেকে বেড়ে ৯১ লাখে পৌঁছেছে। যার ২৭ শতাংশ বিদেশে জন্মগ্রহণকারী নাগরিক। সরকারি তথ্যানুযায়ী, এই সংখ্যা ২০৪০ সাল নাগাদ ১ কোটিতে পৌঁছাবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই বিল পাস হলে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে সুইজারল্যান্ড জনসংখ্যার ওপর আইনি সীমা আরোপের নজির গড়তো।





