উন্নত জীবনের আশায় গেল কয়েক দশক ধরেই সবার পছন্দের তালিকার শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। যা অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিম হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসে গ্রিন কার্ডের আশায় নানা উপায়ে দেশটিতে পাড়ি জমাচ্ছেন বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণা, কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ এবং জীবনযাত্রার মান দেশটিকে অভিবাসীদের পছন্দের গন্তব্যে পরিণত করেছে।
তবে সম্প্রতি এতে ভাটা পড়েছে। এখন দলে দলে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছেন অনেক মার্কিন নাগরিক। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গেল বছর রেকর্ড সংখ্যক ২ থেকে ৪ লাখের বেশি মার্কিন নাগরিক স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে ছেড়ে যাওয়ার সংখ্যা বেশি। যা গেল ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম ঘটনা।
মার্কিন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ২০ শতাংশ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাতে আগ্রহী। অন্যদিকে বিদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান রেসিডেন্টস ওভারসিজের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বিদেশে বসবাস করা মার্কিন নাগরিকদের সংখ্যা ছিল ৫৫ লাখ। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের পছন্দের তালিকায় আছে প্রতিবেশি মেক্সিকো। এরপরই কানাডা। এছাড়া, লাতিন আমেরিকার উরুগুয়ে, কোস্টা রিকা ও পানামা এবং ইউরোপের জার্মানি ও পর্তুগালকেও বেছে নিচ্ছেন মার্কিন জনগণ। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পেছনে অনেকেই নিজ দেশে অপরাধ ও বন্দুক সহিংসতার ঘটনাকে কারণ হিসেবে দায়ী করছেন।
কম খরচ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে জীবনযাপনে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার প্রয়োজন, সেখানে পর্তুগালে মাসে মাত্র ২ হাজার ডলারে প্রায় একই ধরনের সেবা পাওয়া সম্ভব। যদিও ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, সাংস্কৃতিক পার্থক্য এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে চরমে। এতে জনমনে দেখা দিয়েছে হতাশা। জ্বালানি, খাদ্য এবং বিভিন্ন পরিষেবা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান তাদের।
২০০৯ সালের আগে, প্রতি বছর মাত্র ২০০ থেকে ৪০০ জন আমেরিকান তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতেন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া, প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করার আবেদন করেছেন।





