ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন, সংকট সমাধানের পরিকল্পনা কি ব্যর্থ?

উত্তর আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটো
উত্তর আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটো | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রতিনিয়ত দুর্বল হয়ে পড়ছে উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের সুরক্ষাখাতে নিয়োজিত ন্যাটো কমান্ড। ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ন্যাটো থেকে মার্কিন ও ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর বিচ্ছিন্নতা প্রসঙ্গেও জটিলতার কথা উঠেছে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। এমন অবস্থায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ক্রমবর্ধমান সংকট সমাধানে এ অঞ্চলে ন্যাটোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা কি তবে ব্যর্থ হতে বসেছে?

ধীরে ধীরে যেন একটি গৌণ রণাঙ্গনে পরিণত হচ্ছে ইউরোপ। ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় জোটকে একাই নিজেদের নিরাপত্তা লড়াই চালিয়ে যেত হবে বলে মত দিচ্ছেন এ অঞ্চলের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। যার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে ন্যাটো থেকে মার্কিন ও ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর বিচ্ছিন্নতা। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এমন দাবি করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ইন্সটিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

ইইউএসএস জানিয়েছে, ইউরোপীয়রা নিজ জিডিপির ৫% প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে সম্মত হলেও আন্তঃআটলান্টিক দেশগুলোর সম্পর্কের ফাটল বলছে ভিন্নকথা। ইইউয়ের ৭০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্পকে খুশি করতে নয়, ইউরোপকে আত্মরক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ইরান যুদ্ধে ন্যাটোর উপস্থিতি দাবি করার পর ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে ইউরোপীয়রা জানিয়ে দেয়, এই যুদ্ধ তাদের নয়। তারা নিজেরাই জ্বালানি ঘাটতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবিরতাসহ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যায় জর্জরিত।

আরও পড়ুন:

টিআরটি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ইউরোপের এই প্রতিক্রিয়ার পরই ন্যাটোর মার্কিন ও ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর বিচ্ছিন্নতা শুরু। গেল মে মাসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলের যুদ্ধকে ভ্রান্তিমূলক আখ্যা দেয়ার পর জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এর এক সপ্তাহ পরই পোল্যান্ডে চার হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে ইউরোপ স্থায়ীভাবে সেনা মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সাল নাগাদ সেখানে প্রায় আশি হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। এসব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হলে দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধের প্রায় আশি বছরের সম্মিলিত ঐতিহ্যের অবসান ঘটবে। যেটিকে বড় বিপর্যয় হিসেবেই দেখেন আঞ্চলিক বিশ্লেষকেরা।

এ মাসে প্রকাশিত জার্মানির একটি প্রতিরক্ষা গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, ইউরোপের সেনাবাহিনী গুপ্তচর স্যাটেলাইট, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ভারী মাল পরিবহনকারী বিমান এবং ডুবো যুদ্ধ সক্ষমতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে পরিকল্পিত ইইউ-এর প্রতিরক্ষা স্বায়ত্তশাসনে প্রতি বছর অন্তত ৫৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি পদক্ষেপ।

তবে, উত্তর আটলান্টিক অঞ্চল থেকে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তার নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পারবে না খোদ যুক্তরাষ্ট্রও। বিশ্লেষকরা বলছেন,এরকম প্রেক্ষাপটে চীন এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ইএ