সিরিয়াল কিলার গোলাম মোরশেদের বরাদ দিয়ে গায়ের লোম শিহরিত হওয়ার মতো অবস্থার বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।
গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১১ জুন) রাত ৮টায় জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এর আগে বুধবার ভোরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোলাম মোরশেদ দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার পাতহাট গ্রামে হইবর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৬ মাসে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতে বাড়িতে ঢুকে নারীদের ওপর হামলা করে বাড়ির জিনিসপত্র চুরিসহ হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।’
গত ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলার ধামইরহাট থানার নানাইচ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকে হাসান আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তার মেয়ে কলেজ ছাত্রী উম্মে হাবিবার ঘরে ঢুকে মাথায় টিউবওয়েল এর হাতল(হ্যান্ডেল) দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুত্বর আঘাতের ফলে উম্মে হাবিবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
একই দিনে অপরাধী আরও পৃথক দুই বাড়িতে প্রবেশ করে ভিকটিমদের মাথায় মারত্মকভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আসামী শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় একই থানার জাহানপুর গ্রামে শাহিন ইসলামের ঘরে প্রবেশ করে তার স্ত্রী সুলতানা বেগমকে মাথায় বাঁশ দিয়ে মেরে গুরুত্বর আঘাত করে। এরপর এলাকায় একই রাতে আরও তিন বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভোদোকে টিউবওয়েল এর হ্যান্ডেল দিয়ে মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।
সিরিয়ালভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি বা আতংক সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন:
গত ৭ মে জেলার বদলগাছী থানার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় রাতে দেয়াল টপকিয়ে তিন বাড়িতে প্রবেশ করে শাহানাজ (২২), নাসরিন (১৩) ও বাক প্রতিবন্ধী বৃষ্টিকে (২০) মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়।
সবশেষ ৪জুন জেলার পত্নীতলা থানার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে গভীর রাতে দেয়াল টপকিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে রোজি আক্তার (৩৭) এবং অপর একটি বাড়ির জানালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে আলতা বানু (৪৫) ও তার মেয়ে আসমা খাতুনকে (২২) লোহার শাবল দিয়ে মাথায় মারাত্মকভাবে আঘাত করে গুরুত্বর জখম করে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে জেলার বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা হয়েছে।
জেলার ৩টি থানায় অন্তত ১২টি এমন ঘটনা ঘটে। এরপর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন মাঠে নামে। কিন্তু পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য ছিলো না।
পুলিশ সুপার জানান, জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিষয়টি শনাক্ত করে। গোলাম মোরশেদ পেশাদার সাইকো সিরিয়াল কিলার। সে একাই এসব অপরাধ করে এবং বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ায়। এ কারণে তথ্য উদঘাটন করা কঠিন ছিলো। পরে গাজীপুর জেলার শরিফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান, ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মিন্টু রহমানসহ পুলিশের অন কর্মকর্তারা।
মামলাটি তদন্তকালে জানা যায় যে, দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন থানায় অনুরূপ ৫টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং দিনাজপুর নবাবগঞ্জের ঘটনায় একজন নারী মারা গেছে। জয়পুরহাট জেলায় অনুরূপ একটি ঘটনায় দুই জন নারী আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একজন নারী মারা যায়।




