ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের শততম দিন: হরমুজ স্থবিরতা ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে নাকাল বিশ্ববাসী

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধস্ত একটি শহর
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধস্ত একটি শহর | ছবি: সংগৃহীত
0

শততম দিনে পদার্পণ করল ইরান যুদ্ধ। তবে গেল এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও এখনও শান্তিচুক্তি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান। নানা অজুহাতে অব্যাহত রয়েছে পাল্টাপাল্টি হামলাও। এছাড়া, এখনও হরমুজ স্থবিরতার সমাধান করতে পারেনি কোনো পক্ষেই। একারণে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনজীবন।

পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে দিয়ে, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির বিভিন্ন স্থানে অতর্কিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র – ইসরাইল।

প্রথম দিনই ইরানের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হত্যা করা হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলের হামলা নিহত হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি লারিজানিসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ইরানের ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ।

পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ছোঁড়া শাহেদ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির মতো আঘাত হানে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায়। প্রাণ হারান বাংলাদেশিসহ অনেক বেসামরিক নাগরিক।

আর ইরান যুদ্ধে সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে লেবাননের ক্ষতচিহ্ন। দেশটিতে এখনও চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন। আইডিএফের হামলায় লেবাননে প্রতিদিনই ঝরছে নতুন নতুন প্রাণ। দেশটির মোট ভূখণ্ডের এক- পঞ্চমাংশও নিজেদের দখলে রেখেছে ইসরাইল।

তবে ইরান যুদ্ধ শততম দিনে পদার্পণ করলেও এখনও যদি কিন্তুর সমীকরণে ওয়াশিংটন – তেহরান শান্তিচুক্তি। তাই প্রাণহানির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিকে এখনও টালমাটাল করে রেখেছে ইরান যুদ্ধ।

আরও পড়ুন:

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ স্থবির হয়ে পড়ায় তলানিতে পৌঁছেছে জলপথটি দিয়ে জাহাজ চলাচল। শিপ ট্র্যাকিং ডেটার তথ্য বলছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম এক মাসে হরমুজ ছেড়েছে ৬০৭টি জাহাজ। এই হিসেবে দিনে গড়ে প্রায় ৭টি জাহাজ হরমুজ পাড়ি দিয়েছে। যেখানে যুদ্ধের আগে দৈনিক হরমুজ অতিক্রম করত ১০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ।

আর হরমুজ অস্থিরতা আর ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা- পালটা হামলার জবাবে, লাগামহীন বিশ্ব তেলের বাজার। আল জাজিরা বলছে, গেল ৩ মাসে পেট্রোলের দাম বেড়েছে অন্তত ১৪৬টি দেশে। আর আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বলছে, যুদ্ধের আগে অপরিশোধিত জ্বালানির গড় দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার ছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো শতক হাঁকায় ব্যারেলপ্রতি জ্বালানির মূল্য ।

এছাড়াও, ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। সংঘাত শুরুর পর গেল ফেব্রুয়ারিতে একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতনের সম্মুখীন হয় জাপানি শেয়ার নিক্কেইয়ের সূচক।

তবে বিশ্ব অর্থনীতি দিনকে দিন অস্থিতিশীল হলেও এখনও শান্তিচুক্তির জন্য ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র- ইরান। বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু তেহরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ ইস্যুই নয়, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের অভাবেও বারবার ভেস্তে যাচ্ছে ইরান শান্তিচুক্তি।

এফএস