মান সম্মত সেবা বা ভালো চিকিৎসার আশায় অনেকেই বেছে নেয় বেসরকারি হাসপাতাল। তবে মাঝে মাঝেই ভুল চিকিৎসা কিংবা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি আদ-দ্বীনে ঘটে যাওয়া ৬ নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ফের আলোচনায়।
আমরা এবার দেখতে চাই রাজধানীতে থাকা বেসরকারি হাসপাতালগুলো কতটা নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। শুরুতেই রাজধানীর সোনারগাঁও রোডে অবস্থিত পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে যাই আমরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রবেশপথে টানানো থাকতে হবে। যেটা দেখা যায়নি এখানে। এমনকি ছিলো না কোন তথ্য কর্মকর্তাও। নেই হাসপাতাল লাইসেন্সের মেয়াদও। এভাবেই চলছে রোগীর স্বাস্থ্য সেবা। যদিও এ বিষয় দায়সারা উত্তর কর্তৃপক্ষের।
একই অবস্থা গ্রিন রোডের ধানমন্ডি ক্লিনিকের। লাইসেন্সের মেয়াদ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মেয়াদ ছিলো না পরিবেশের অধিদপ্তরের অনাপত্তি পত্রের। তবে লাইসেন্সের মেয়াদ থাকলেও নির্দেশনা না মেনেই পরিচালিত হচ্ছে পাশেই অবস্থিত গ্রীনভিউ ক্লিনিক। তবে এবিষয় জানতে চাইলেই চড়াও হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিয়ম বহির্ভূতভাবে দেদারসে চলা এসব হাসপাতাল, ল্যাবে, নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি। এমনকি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে না এসেই লাইসেন্স রিনিউ করার মতো অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে।
এবিষয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়মিত না হলেও মাঝে মাঝেই মেয়াদহীন, অবৈধ এসব ক্লিনিক ল্যাব ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে লোকবল সঙ্কটের কারণে ধারাবাহিক ভাবেই এই অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের যে জনবল আছে বা লোকবল আছে তাতে সবগুলো ক্লিনিক আমরা যে একইসাথে পরিদর্শন করতে পারবো বা ব্যবস্থা নিতে পারবো এটিও কিন্তু না। কিন্তু এটি একটি চলমান কার্যক্রম।’
তবে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জিয়া হায়দার দিয়েছেন ভিন্ন মত। তার মতে, বেসরকারি হাসপাতালের পুরানো নীতিমালার কারণেই চাইলেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।তবে দ্রুতই এই সরকার স্বাস্থ্য খাতের নীতিমালা দ্রুত ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে রেগুলেট করার জন্য যে আইনি কাঠামো দরকার সেটাই আমাদের একটা বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে। এটা আমরা আগে থেকেই জানি। এটা আমরা কাটানোর জন্য আমরা ১৯৮২ এর যে অর্ডিন্যান্স সেটাকে রিভাইস করা এবং নতুন করে একটা আইনি কাঠামো তৈরি করা এটার ড্রাফটের কাজ অলরেডি আমরা শুরু করেছি।’
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলীর বক্তব্যও একইরকম। তবে যত্রতত্র এসব ক্লিনিক ল্যাবের লাইন্সেন্স পেতে রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহার ঠেকাতে সরকারকে কঠোর হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘অনুমোদন তো আমি শুধু দুর্নীতির কথা বলছি না। দলীয় থাকে, প্রশাসনিক চাপ থাকে, বিভিন্নরকম লবি থাকে সবকিছু দিয়েই হয়। এটা তো একটা ফ্যাক্টর না। লাইসেন্স নিচ্ছে তখন হয়তো এক অ্যাকাউন্ট শো করছে কিন্তু পরবর্তীতে মনিটরিং সুপারভিশন যেটা আমরা চাচ্ছি সেটা দিতে গেলেও আলাদা বিষয় লাগবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সারা দেশে লাইসেন্সধারী বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংকের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৩৩টি। আর লাইসেন্সহীন আছে ১ হাজার ২৭টি।





