প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ইতোমধ্যে আয়কর আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আগামী বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর ছাড়ের ঘোষণা দেবেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আরও পড়ুন:
বিদ্যমান কর আইন এবং নতুন পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট (Current Income Tax Law Bangladesh)
বিদ্যমান আয়কর আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দেশে বসে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে সেবা বা পণ্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করলে, ব্যাংকগুলো সেটিকে সাধারণ রেমিট্যান্স হিসেবে গণ্য করত না। এই কারণে ব্যাংকগুলো ফ্রিল্যান্সার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের দেশে আনা ডলার বা আয়ের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ উৎসে কর (7.5% Source Tax) কেটে রাখত। অন্যদিকে, প্রবাসীদের পাঠানো সাধারণ রেমিট্যান্সের ওপর কোনো কর কাটা হয় না।
গত ১ জুন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তিনি ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আরোপিত এই ৭.৫% করের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি এবং প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশনার পর এনবিআর ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর থেকে এই কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
দেশের ভেতরের আয়ে নিয়মিত কর বহাল থাকবে (Tax on Sponsorship and Brand Promotion)
তবে এই কর ছাড় কেবল বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স বা মনিটাইজেশন আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আয়কর আইনের নতুন সংশোধনীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সংজ্ঞা (Definition of Content Creator in Income Tax Law) যুক্ত করা হচ্ছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটররা যদি দেশের ভেতরে কোনো কোম্পানির ব্র্যান্ড প্রমোশন বা স্পনসরশিপ (Brand Promotion and Sponsorship) এবং লোকাল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ আয় করেন, তবে সেই আয়ের বিপরীতে নিয়মিত করদাতাদের মতোই নির্ধারিত হারে আয়কর রিটার্ন জমা (Income Tax Return Bangladesh) ও ট্যাক্স দিতে হবে। অর্থাৎ, শুধু ফেসবুক মনিটাইজেশন বা ইউটিউব অ্যাডসেন্স (YouTube AdSense) এবং আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের আয় করমুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন:
ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বড় উদ্যোগ ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের ভবিষ্যৎ (Dutch Bangla Bank Freelancing Tax Update)
সরকারের এই ইতিবাচক গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার পর বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর উৎসে কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যাংকটি জানিয়েছে—যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে আগে কর কেটে নেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা দ্রুত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে ৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান (8 Lakh Jobs in Freelancing and Content Creation) সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছিল। এই খাতের উন্নয়নে ১০ বছরের কর সুবিধা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণ ও স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
একনজরে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নতুন কর নীতিমালা
আয়ের খাত (Source of Income)
নতুন কর নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত (Tax Rule & Decision)
পূর্ববর্তী কর হার (Previous Tax Rate)
বৈদেশিক আয় ও রেমিট্যান্স
(Foreign Income / AdSense)সম্পূর্ণ করমুক্ত। ফেসবুক মনিটাইজেশন, ইউটিউব অ্যাডসেন্স এবং আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হবে না।
৭.৫% (সাড়ে সাত শতাংশ)
দেশীয় স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন
(Local Sponsorship & Branding)কর প্রযোজ্য। দেশের ভেতরের কোনো ব্র্যান্ড প্রমোশন বা লোকাল স্পনসরশিপের আয়ের ওপর নিয়মিত করদাতাদের মতো নির্ধারিত হারে ট্যাক্স দিতে হবে।
নিয়মিত কর হার বহাল
ব্যাংক সংক্রান্ত বড় পদক্ষেপ
(Bank Declaration - DBBL)ডাচ-বাংলা ব্যাংক ইতিমধ্যে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের কর কর্তন স্থগিত করেছে। পূর্বে কেটে নেওয়া করের টাকা ফ্রিল্যান্সারদের অ্যাকাউন্টে দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে।
টাকা ফেরত প্রক্রিয়া চলমান
আইটি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
(IT Sector Future Plan)আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে ৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১০ বছরের কর সুবিধা (Tax Holiday) এবং নতুন স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হবে।
বাজেট ২০২৬-২৭ এর অংশ
বিশেষ নোট: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আসন্ন বাজেট বক্তৃতায় আয়কর আইনের এই সংশোধনী এবং 'কনটেন্ট ক্রিয়েটর'-এর নতুন সংজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।
আরও পড়ুন:





