দিল্লিতে ‘ককরোচ পার্টি’র সমাবেশ; শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্লোগান দিচ্ছেন
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্লোগান দিচ্ছেন | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতের ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র শত শত সমর্থক নয়াদিল্লিতে জড়ো হয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে সংবাদের শিরোনামে আসা এই দলটি আজ (শনিবার, ৬ জুন) রাজপথে নেমেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামকে অনুকরণ করে গড়ে তোলা এই দল লাখ লাখ অনলাইন অনুসারী এবং তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে।

আজ (শনিবার, ৬ জুন) নয়াদিল্লির পার্লামেন্টের কাছে নির্ধারিত প্রতিবাদ এলাকায় শত শত সমর্থক জড়ো হন। অনেকেই তেলাপোকার মুখোশ পরে অংশ নেন এই সমাবেশে।

গত মাসে এক আদালতের শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সরকারের সমালোচনাকারী তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে আখ্যা দেন। পরে অবশ্য সূর্য কান্ত দাবি করেন, তার মন্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তবে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে এই অপমানজনক মন্তব্যকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে একটি প্যারোডি বা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট চালুর এক সপ্তাহের মধ্যেই সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজের অনুসারী সংখ্যা আকাশছোঁয়া হয়। শনিবার পর্যন্ত পেজটির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২২ লাখের বেশি। দলটির স্লোগান হলো—‘তরুণদের রাজনৈতিক মঞ্চ, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের জন্য’।

শনিবারের সমাবেশের জন্য সিজেপির আয়োজকরা সমর্থকদের জড়ো করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে। গত মে মাসে একটি পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুতই ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা ও সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে তরুণদের ক্ষোভে রূপ নেয়।

সিজেপি সমর্থকেরা স্লোগান দেন, ‘তেলাপোকা আসছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান যাচ্ছে।’

আয়োজকেরা সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের ভারতের জাতীয় পতাকা এবং একটি বই বহন করার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এই বই শিক্ষার অধিকার এবং সবার জন্য সমান সুযোগের প্রতীক। বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণ থাকতে এবং পুলিশের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলতে অনুরোধ করা হয়।

বিক্ষোভের আগেই ভারতীয় পুলিশ বিমানবন্দর ও যন্তর-মন্তর প্রতিবাদস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থাপন করা হয় স্টিলের ব্যারিকেড।

দলটির এই উত্থানের ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিফলন। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জন্ম নেয়া তরুণ আন্দোলনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তেলাপোকাকে এখন সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে সিজেপির সমর্থকেরা মজার ছলে নিজেদের ‘বেকার এবং সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা একদল মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ভারতের জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি তরুণ হলেও তারা সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগের মুখে পড়েছেন। ফলে দেশটিতে বেকারত্ব বাড়ছে এবং প্রচলিত রাজনীতি নিয়ে তরুণদের মধ্যে হতাশা ক্রমশ বাড়ছে।

মোদির দলের কিছু সমর্থক অবশ্য সিজেপিকে ‘স্রেফ একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক চমক’ হিসেবেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, এই ব্যঙ্গাত্মক দলের অনলাইন সাফল্য রাজপথের জনসমাবেশে রূপান্তর হবে না এবং তাদের এই দ্রুত উত্থান ক্ষণস্থায়ীই হবে।

এএম